kalerkantho


আ. লীগ-বিএনপি লড়াই হতে পারে সমানে সমানে

অসীম মণ্ডল, সিরাজগঞ্জ    

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগ-বিএনপি লড়াই হতে পারে সমানে সমানে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সিরাজগঞ্জ জেলায় ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, এর বাইরে জাতীয় পার্টি, জাসদসহ বেশ কটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী সভা-সমাবেশ শুরু করেছে। তবে নির্বাচনী মাঠ এখনো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দখলে। সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে দুটি আসন সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর আলীর সন্তান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম  এবং সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় হাবিবে মিল্লাাত মুন্নার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত।

সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর আলী এ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত হতেন। তাঁরই উত্তরসূরি মোহাম্মদ নাসিম। পিতার জনপ্রিয়তা ধরে রেখে তিনিও বারবার নির্বাচিত হচ্ছেন এই আসন থেকে। ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে মোহাম্মদ নাসিম মামলার কারণে প্রার্থী হতে পারেননি। এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁর সন্তান প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় এবং জয়ীও হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হন মোহাম্মদ নাসিম এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে

তিনি আবারও প্রার্থী হচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের অন্য কোনো প্রার্থীর নাম এখনো শোনা যায়নি।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। যদিও এখনো তাঁরা জনসংযোগে নামেননি। যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা। এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি নড়বড়ে। ফলে আওয়ামী লীগ অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর একাংশ-কামারখন্দ) আসনটি থেকে জেলার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ হয়। এ আসনটি বর্তমানে আওয়ামী লীগের দখলে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী হিসেবে ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়। জেলার সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলের হাল ধরেন। এরপরই প্রতিটি ইউনিয়নে দলের সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী হয়। সৎ ব্যক্তি হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রার্থী হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বিএনপি সরকারের আমলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এ আসনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনটির দুই উপজেলায় আদিবাসী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে সংসদ সদস্যের মৃত্যুর পর এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন। এ আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তাড়াশ রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিন্নাহ আলমাজি, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ইসহাক হোসেন তালুকদারের ছেলে অ্যাডভোকেট ইমরুল হোসেন ইমন তালুকদারসহ অন্তত ১২ জন প্রার্থিতা চেয়ে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছেন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান তালুকদার, তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম জাহাঙ্গীর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহগ্রাম সরকার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিশিরের নাম শোনা যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় ও জাতীয় কর্মসূচি পৃথকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম ও সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শফিকুল ইসলামের দ্বন্দ্বের কারণে দলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সেলিনা মির্জা মুক্তির দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ। ফলে এ আসনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাঁরা তিনজনই এবারের নির্বাচনে এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী। অন্যদিকে উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা এ কে এম শরীফ উদ্দীন মঞ্জুও মনোনয়ন চাইবেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল আলমও এই আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। এদিকে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রার্থী হতে পারেন। যদি তিনি প্রার্থী হন তাহলে তা বিএনপির ভোটের ক্ষেত্রে বেশ প্রভাব ফেলতে পারে।

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি চৌহালী) আসন সিরাজগঞ্জের অন্যতম আলোচিত সংসদীয় আসন। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে পরিচিত সাবেক মৎস্যমন্ত্রী ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। ২০১৪ সালে তাঁকে মনোনয়ন না দিয়ে শিল্পপতি আব্দুল মজিদ মণ্ডলকে দেওয়া হয়। এখানে দলের কোন্দল প্রকাশ্যে। মণ্ডল গ্রুপ ও বিশ্বাস গ্রুপের দ্বন্দ্ব চরমে। এ আসনে প্রবীণ নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী আব্দুর রহমান, আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মুসফিকুর রহমান মোহন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এপিএস মোশারফ হোসেন, বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ মণ্ডলের ছেলে মণ্ডল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল মমিন মণ্ডলও মনোনয়নপ্রত্যাশী। অন্যদিকে আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সমর্থকরা মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। বিএনপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আনসার আলী সিদ্দিকির ছেলে চৌহালী উপজেলার চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল আল মামুন, গোলাম মওলা খান বাবলু এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম ও জেলা বিএনপির সদস্য রাকিবুল করিম খান পাপ্পু মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে এ আসনে প্রার্থী হিসেবে জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আলী আলমের নামও শোনা যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন। নানা উন্নয়নমূলক কাজে তিনি গঠনমূলক ভূমিকা রেখে প্রশংসিত হয়েছেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে চয়ন ইসলাম ও হাসিবুর রহমান স্বপন মাঠে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক এম এ মতিনের ছেলে ড. এম এ মুহিত। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য কামরুদ্দীন এহিয়া খান মজলিস এবং কে এম তারিকুল ইসলাম আরিফ মনোনয়নের জন্য মাঠে রয়েছেন।



মন্তব্য