kalerkantho


ঋণ শোধ দিতে পারেননি গৃহবধূ

ছাত্রদল নেতার লাথিতে গর্ভের শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ছাত্রদল নেতার লাথিতে গর্ভের শিশুর মৃত্যু

রবিউল হাসান দারুন

বগুড়া পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসান দারুনের লাথির আঘাতে শাপলা বেগম নামের এক গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে। নির্মম এই কাণ্ড করা হয়েছে সুদের অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ না করায়। গত রবিবার রাতে এ ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি এবং বগুড়া সদর থানায় সোমবার রাতে একটি মামলা করা হয়েছে।

জানা গেছে, বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ার বাসিন্দা শাপলা বেগম (২৮) পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিন মাস আগে তিনি স্থানীয় অগ্রগতি বহুমুখী সমিতি থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এরপর তিনি আসল ও সুদ মিলে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে সমিতিটি থেকে সুদ হিসেবে আরো ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ টাকা দিতে না পারায় রবিবার রাতে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসানসহ সমিতির লোকজন শাপলা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁর আসবাবপত্র বের করে নিয়ে আসে। শাপলা এতে বাধা দিলে ছাত্রদল নেতা দারুন তাঁর পেটে লাথি মারেন। এতে শাপলার গর্ভপাত হয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দ্বিতীয় তলায় গাইনি বিভাগে শাপলা চিকিৎসাধীন।

শজিমেক হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ মাছুয়া জাহান বলেন, শাপলা বেগম পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর গর্ভপাত হয়েছে। তিনি অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসা চলছে।

শাপলা বেগমের স্বামী শফিউল ইসলাম বাবু জানান, তিনি গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ডবয়ের কাজ করেন। তাঁদের আট বছরের একটি ছেলে এবং পাঁচ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বাবু বলেন, সমস্যায় পড়ে তাঁরা সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তবে তাঁরা রবিবার সমিতির লোকজন আসার ১৫ দিন আগেই সেই টাকার সুদ-আসল মিলে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে আরো ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ টাকা দিতে না পারায় তাঁর ঘরের আসবাবপত্র কেড়ে নিয়ে যায় তারা। বর্তমানে নিরাপত্তার অভাব দেখা দেওয়ায় চেলোপাড়ার বাড়ি ছেড়ে তিনি দুই সন্তান নিয়ে গাবতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে অবস্থান করছেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূর শাশুড়ি বাদী হয়ে ছাত্রদল নেতা রবিউল হাসান দারুনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

মামালার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারুলী ফাঁড়ির এসআই আব্দুল হাই বলেন, আসামি দারুন গা ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশের অভিযান চলছে। শিগগিরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকে মোবাইল ফোনে ফোন করেও পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য