kalerkantho


কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরে শ্রিংলা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ করছে ভারত

মেহেদী হাসান, কক্সবাজার থেকে ফিরে    

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ করছে ভারত

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে ভারতের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। গত বছর আগস্ট মাসে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা ঢল শুরুর পর গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরে যান তিনি। এ সময় তিনি বালুখালিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে পাঠানো ১১ লাখ লিটারেরও বেশি কেরোসিন তেল ও ২০ হাজার কেরোসিন স্টোভ বিতরণ উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নেন।

গতকাল বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে কালের কণ্ঠ’র প্রশ্ন ছিল, ঢল নামার এক বছর পর তাঁর এ সফর কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

জবাবে হাইকমিশনার শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের এ সংকট প্রশমন চেষ্টার অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখাকে ভারত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। শুধু তিনি নন, নয়াদিল্লি থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার অনুবিভাগের প্রধানও গতকাল রোহিঙ্গা শিবির সফর করেছেন।

শ্রিংলা বলেন, ‘এ সংকট বাংলাদেশ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর আমাদের দায়িত্ব হলো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এই সংকট সমাধান ও প্রত্যাবাসনে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসন শুরু দেখতে চায়।’

হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা অনুধাবন করি, বাংলাদেশের সমস্যা ভারতের জন্যও সমস্যা। আর এ সংকট সমাধানে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সহযোগিতাও প্রয়োজন।’

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ভারতই একমাত্র দেশ যার সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত আছে। আবার  ভারতই বিশ্বের একমাত্র দেশ যে রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের রাখাইনে বাড়িঘর নির্মাণ করছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রসচিবের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে ভারতের সরকারের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মিয়ানমারে গিয়ে রোহিঙ্গা সংকটের নিরাপদ, টেকসই ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। জাতিসংঘে ভারতের সাম্প্রতিক বিবৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল দুপুরে বালুখালিতে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও ভারতের হাইকমিশনার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য ২৫০টি ‘প্রিফেব্রিকেটেড’ বাড়িঘর নির্মাণ করছে। শিগগিরই সেগুলোর কাজ শেষ হবে।

ভারতের হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াসহ মানবিক তৎপরতায় বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশকে আরো সহযোগিতা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া ভারতের ১১ লাখ লিটার কেরোসিনের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জ্বালানি কাঠের জন্য প্রতিদিন দু-তিনটি ফুটবল মাঠের সমান জায়গার বন ধ্বংস হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ভারতের ১১ লাখ লিটার কেরোসিন আশ্রিত ২০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে দেওয়া হবে। এতে তাদের আগামী পাঁচ মাসের জ্বালানি চাহিদা মিটবে।



মন্তব্য