kalerkantho


জন্মদিনে ভালোবাসায় সিক্ত আহমদ রফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জন্মদিনে ভালোবাসায় সিক্ত আহমদ রফিক

বহুমাত্রিক প্রতিভা তাঁর। কবি, লেখক, গবেষক তিনি। তবে দেশের মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় আনত হয়, কারণ তিনি ভাষাসংগ্রামী। মহান ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন, পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন নিয়ে কাজ করছেন নিরন্তর। এই ভাষাসংগ্রামীকে শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল বুধবার সবাই মিলিত হয়েছিল। উপলক্ষ ছিল তাঁর ৯০তম জন্মদিন। ফুলেল শুভেচ্ছা, গান ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়।

জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আহমদ রফিকের জন্মোৎসবের এই আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে আহমদ রফিককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। অভিনন্দন বচন পাঠ করেন কবি মুনির সিরাজ। অনুষ্ঠানে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আহমদ রফিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। যৌথভাবে এই জন্মোৎসবের আয়োজন করে অন্যপ্রকাশ ও অনিন্দ্য প্রকাশ।

আনন্দানুষ্ঠানের শুরুতে মাশুক হেলালের আঁকা আহমদ রফিকের একটি প্রতিকৃতি তাঁর হাতে তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান অতিথি। পরে ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’সহ শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে তিনটি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আহমদ রফিক বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় জন্মদিন পালন বাচ্চাদের বিষয়। কবি শামসুর রাহমানের জীবদ্দশায় যখন জন্মদিন পালিত হতো, তখন আমি তাঁকে বলতাম—কেমন লাগে এই বয়সে এসব? তিনি আমাকে একবার বলেন, বেশ মজাই তো লাগে। রঙিন কাপড়চোপড় পরে আসি। নিজেকে বাচ্চাদের মতো মনে হয়। গত কয়েক বছর ধরে আমার জন্মদিন পালন হচ্ছে। এ রকম আয়েজনে এসে অনেকেই প্রশংসাসূচক নানা কথা বলে। ভালোই লাগে।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম শহীদ মিনার যেটি নির্মাণ করা হয়, তার সঙ্গে মিশে আছে আহমদ রফিকের নাম। সবাই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ, শাহজাদপুর নিয়ে লিখছেন, তখন তিনি পতিসরে রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্কার করলেন সকলের কাছে। তাঁর আরেক পরিচয় পেলাম। ভাষাসৈনিক থেকে ভাষাসংগ্রামী অভিধা দেওয়ার ভূমিকাটিও তাঁর। সব সময় তাঁর সঙ্গী বই ও কলম। সেই কলমে উঠে এসেছে বাংলদেশ, মুক্তবুদ্ধি, প্রগতিশীলতা, মননশীলতা। নিঃস্বার্থভাবে তিনি এখনো লিখে চলেছেন।’

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘দেশে বড়মাপের শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা কমে আসছে। তাঁদের মধ্যে যে কয়েকজন আমাদের সমাজকে নিয়ে নিয়ত ভাবেন, তাঁদের একজন আহমদ রফিক। তাঁর চেতনা আমাদের সমৃদ্ধ করছে। আহমদ রফিকের জীবনটা শুরু হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এ জন্য ভিত্তিটা এত শক্ত। তিনি আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়, অনুসরণীয় এক ব্যাক্তিত্ব।’

রামেন্দু মজুমদার বলেন, “তাঁর লেখনী সব সময় সত্য তুলে ধরে। কিছুদিন আগে তিনি একটি কলামে বর্তমান সময়ের বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে লিখেছেন—‘সবাই নিরাপদে থাকতে চান, ঠিক কথাটি উচ্চকণ্ঠে বলেন না।’ তিনি সমাজ নিয়ে সব সময় ভাবেন বলেই এভাবে বলতে পারেন। রবীন্দ্র গবেষক হিসেবে তিনি পতিসরকে প্রথম তুলে আনেন। এত গুণের অধিকারী মানুষটি নিভৃতচারী, যা আজকের দিনে দুর্লভ।”

শামসুজ্জামান খান বলেন, ভাষাসংগ্রামী হিসেবে তিনি যা লিখেছেন তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনন্য। রবীন্দ্রনাথের জীবনীর তিনটি খণ্ড তিনি রচনা করছেন; যার দুটি এরই মধ্যে তিনি শেষ করেছেন। তাঁর চিন্তা-ভাবাদর্শে স্নাত হয়ে তরুণ প্রজন্ম সমাজকে এগিয়ে নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আহমদ রফিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন, শিশু একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্র ও জাদুঘর, শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স, খামখেয়ালি সভা, বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি, ইমপেরিয়াল কলেজ ও দনিয়া পাঠাগার।



মন্তব্য