kalerkantho


পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যত হামলা-মামলা হয়েছিল বর্তমানে তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের নির্যাতন, হামলা-মামলায় হাজার হাজার নেতাকর্মী বর্তমানে এলাকা ছাড়া। হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ আর কাজিরহাট থানায় যত মামলা তার ৯৫ শতাংশই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ মদদে এ মামলা করা হয়েছে। পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীরা ‘নির্যাতন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-মাদক প্রতিরোধ কমিটি বরিশাল-৪’ নামের সংগঠন করেছে।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয় ‘নির্যাতন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-মাদক প্রতিরোধ কমিটি বরিশাল-৪’ নামে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেন প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব এবং মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। ছয় পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে পঙ্কজের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নিয়োগ বাণিজ্য, নির্বাচন বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য, মাদক বিক্রয়, লুটপাট, আওয়ামী লীগের  নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, জাটকা নিধন বাণিজ্য, দখল বাণিজ্যের বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

আগামী সংসদ নির্বাচনে পঙ্কজ নাথকে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ আওয়ামী লীগ নিধনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের ঈদুল ফিতরের দিন আলতু সরদারের নেতৃত্বে পঙ্কজ নাথের ক্যাডাররা গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল মোল্লার বাড়িতে হামলা চালায়। কিন্তু পঙ্কজ ওই হামলায় আহতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নিতে পুলিশকে বাধ্য করেন।

ভাষানচর ইউপি নির্বাচনে সংসদ সদস্যের মনোনীত বিদ্রোহী প্রার্থীকে জয়লাভ করাতে পরিকল্পিতভাবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সমীর চারুকে খুন করানো হয়।

পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে মামলা করায় কাজিরহাট থানা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক সঞ্জয়ের হাত-পা ভেঙে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে দলীয় কর্মী করিম, মানিক, অমিত সাহা, রিপন মাঝি, মালেক আকন, বারেক, ইকবাল শাহীন, মাওলানা জসিম, শিপন, জাহেদুল আলম, হযরত আলী বেপারী, নাসির উদ্দিন সান্টুসহ শত শত নেতাকর্মীকে পঙ্কজের ক্যাডাররা হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইকবাল হোসেন মাতব্বর, স্থানীয় জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক  সেকান্দার আলী, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য মাহে আলম ঢালী, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ মাহমুদ, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।



মন্তব্য