kalerkantho


এলএনজি সরবরাহ আজ থেকে তিন গুণ

নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ ভিড়েছে মহেশখালী উপকূলে

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এলএনজি সরবরাহ আজ থেকে তিন গুণ

তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির সুফল পেতে শুরু করেছে চট্টগ্রামবাসী। গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সার কারখানাগুলো আবারও সচল হয়েছে। মহেশখালী দ্বীপের অদূরে সাগরে অবস্থানকারী ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট থেকে আজ সোমবার এলএনজি সরবরাহ তিন গুণ করা হচ্ছে। এতে কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) অধীন চট্টগ্রাম নগরসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাসের প্রবাহ ও চাপ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার খায়েজ আহমদ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলএনজিবাহী নতুন জাহাজ আসার পর গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। এত দিন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। সোমবার থেকে তা বাড়িয়ে তিন গুণ, অর্থাৎ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের অভাব অনেকটা দূর হবে।’

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, কাতার থেকে একটি মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) এক লাখ ৩৩ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে গতকাল রবিবার মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী উপকূলে ভিড়েছে। আরো দুটি জাহাজ কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে রওনা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের অভাবে শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার পর ওই কেন্দ্রে ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয় কেজিডিসিএল। এর পর থেকে ওই কেন্দ্রে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। গতকাল শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাউজান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে গতকাল থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে কেজিডিসিএল। গতকাল ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস দেওয়া হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট। ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়লে ওই কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

এলএনজি সরবরাহ পাওয়ায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কম্পানি লিমিটেড বা কাফকোতে আবারও সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল) আবার চালু করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার পর থেকে আবাসিক গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস পাচ্ছেন।

চট্টগ্রামের খুলশী, লালখানবাজার, পাথরঘাটা, বাকলিয়া, চকবাজার, মাতারবাড়ী, হামজারবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে ছিল। গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার পর থেকে এই এলাকাগুলোতে গ্যাসের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জিনিয়া আফরোজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ কয়েক বছর গ্যাস সংকটে ছিলাম। দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস সরবরাহ থাকত না। এখন সার্বক্ষণিক গ্যাস পাচ্ছি। এলএনজি আমদানির সুফল আমরা পাচ্ছি।’

কেজিডিসিএলের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গতকাল গ্যাসের জাতীয় সঞ্চালন লাইন থেকে কেজিডিসিএলে গ্যাস সরবরাহ হয়েছিল ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস এসেছে আরো ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। কেজিডিসিএলের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেজিডিসিএল ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করত। এই প্রথম কেজিডিসিএল ৩০০ মিলিয়ন গ্যাস একযোগে পাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামে এত দিন জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এলএনজি আসার পর জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে কেজিডিসিএল জাতীয় গ্রিড থেকে আর প্রাকৃতিক গ্যাস পাবে না। এতে সাশ্রয় হওয়া গ্যাস দেশের অন্যান্য জেলায় দেওয়া হবে। কেজিডিসিএল আজ থেকে এলএনজিনির্ভর হওয়ায় ঢাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ বাড়বে।



মন্তব্য