kalerkantho


সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

কালীগঞ্জ  উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেনকে (৫২) গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে কৃষ্ণনগর বাজারে এ খুনের ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলযোগে আসা মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা হত্যা শেষে নির্বিঘ্নে চলে যায়। ঘটনায় জড়িত কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কেন এ হত্যাকাণ্ড এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা মেলেনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মোশাররফ হোসেন জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহসাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদে দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। শনিবার রাত ১০টার দিকে মোশাররফ চেয়ারম্যান বসেছিলেন কৃষ্ণনগর বাজারে ইউনিয়ন যুবলীগ অফিসের সামনে। যুবলীগ সভাপতি ইউপি সদস্য ফজলু ও সাধারণ সম্পাদক বাবুকে ডেকে নিয়ে জরুরি কাজে চাতরা গ্রামে মহসিনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। একটি মামলা প্রত্যাহার বিষয়ে মহসিনের সঙ্গে আলাপ করতে চান তিনি। এরপর প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা ও গ্রামপুলিশ রমজান আলীর সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন চেয়ারম্যান।

বাজারের নৈশ প্রহরী আব্দুস সামাদ বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে ভেগির হাটখোলার দিক থেকে দুটি মোটরসাইকেল আসে। একটি কালো রঙের বাজাজ সিটি-১০০ আরেকটি লাল রঙের পালসার। এতে মোট ছয়জন ছিল। চারজন হেলমেট পরা ও দুজন হলুদ কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে রেখেছিল। যুবলীগ অফিসের সামনে গাড়ি থামিয়ে মুখ বাঁধা দুজন ককটেল ছুড়ে মারে। বিস্ফোরণের শব্দে তখন বাজারে খোলা থাকা দুটি চায়ের দোকান বন্ধ করে উপস্থিত লোকজন সরে যায়। সন্ত্রাসীরা মোশাররফ হোসেনকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও গুলি করে খানপুরের দিকে চলে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় চেয়ারম্যানকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সূত্র জানায়, ২৩ আগস্ট রাত ১০টার দিকে চাতরা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে মহসিন হামলার শিকার হন। বালিয়াডাঙা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। মহসিন এ বিষয়ে আদালতে মামলা করেন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ নুরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, হাসানসহ ১০-১২ জনের নামে। মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য চেয়ারম্যান চাপ সৃষ্টি করেন এবং যুবলীগ নেতাদের শনিবার রাতে মহসিনের বাড়িতে পাঠান। তাঁরা কিছুক্ষণ পরই ঘটে খুনের ঘটনা।

স্ত্রী লাকী খাতুন বলেন, ‘বিলে মাছ ধরা নিয়ে সম্প্রতি জলিল মেম্বার, এশার আলীসহ কয়েকজনের সঙ্গে চেয়ারম্যানের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। তবে এ হত্যায় তাঁরা জড়িত কি না জানা নেই।’ পুরনো বিরোধেই খুনের ঘটনা বলে লাকী অভিমত দেন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, মোশাররফ হোসেন কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের ছৈলদ্দিন কাগুচির ছেলে। ছৈলদ্দিন এলাকায় রাজাকার হিসেবেই পরিচিত। মোশাররফ জাতীয় পার্টি করলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠতা। ২০১২ সালের ২৭ মার্চ ফতেপুর হাই স্কুল মাঠে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঞ্চস্থ নাটক নিয়ে বড় ধরনের সহিংসতা হয়। এসংক্রান্ত মামলায় তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। গত মাসে চাতরা গ্রামের মহসিন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন তাতে চেয়ারম্যান যুক্ত বলে সন্দেহ করছিলেন অনেকে। কয়েক দিন ধরে চেয়ারম্যান এলাকায় ঘোরাঘুরি কমিয়ে দিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই শনিবার রাতে বাজারে গিয়ে বসেন। এক ঘণ্টার মধ্যে সেখানেই ঘটে খুনের ঘটনা।

কালীগঞ্জ থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান জানান, রাতেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুটি গুলির খোসাসহ আলামত জব্দ করা হয়েছে। হত্যার কারণ ও খুনিদের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



মন্তব্য