kalerkantho


ফখরুল বললেন

খালেদাকে জেলে হত্যার চেষ্টা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



খালেদাকে জেলে হত্যার চেষ্টা হচ্ছে

ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) পরিবারের সদস্যরা কারাগারে গিয়েছিলেন। তাঁরা এসে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার যে বর্ণনা দিয়েছেন তাতে আমরা শুধু উদ্বিগ্ন নই, হতবাক। অথচ এর পরও সরকার তাঁর চিকিৎসার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা মামলায় শাস্তি দিয়ে কারাগারে বেআইনিভাবে আটকে রেখে তাঁকে হত্যার হীন চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আজই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাব। তাঁর সঙ্গে দেখা করে দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাব।’

কারাগারে দেখা করে আসা পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাঁরা জানিয়েছেন যে দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। তাঁর বাম হাত ও বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। তিনি অসহ্য ব্যথা অনুভব করছেন। নেত্রী বলেছেন যে তাঁর কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। গত ৫ তারিখে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত বেআইনি আদালত কক্ষেও তিনি একই কথা বলেছেন। তিনি বলে দিয়েছেন যে শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি এই আদালতে আসতে পারবেন না। এ অবস্থায় আমরা চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো নাগরিক অসুস্থ হলে তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকাজ চালানো যায় না। আমরা অনেকবার বলেছি, পরীক্ষা করে চিকিৎসকরাও বলেছেন যে খালেদা জিয়া মারাত্মকভাবে অসুস্থ। তাঁর জীবন রক্ষার জন্য অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া অতি প্রয়োজন। এখন যে অবস্থায় তিনি আছেন তাতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে তিনি এই অবস্থায় কত দিন বেঁচে থাকতে পারবেন। আমরা সরকারকে বলব, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সব দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। বিশেষ করে সংবিধান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষকেও স্পষ্ট করে বলতে চাই, প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষ হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে আইন ও বিধান দ্বারা পরিচালিত। এই দায় আপনাদেরও বহন করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে স্যাঁতসেঁতে ঘরে আবদ্ধ করে রেখেছে। একজন সাধারণ বন্দির সঙ্গেও এ ধরনের আচরণ করা হয় না। সরকার তাঁকে আবার শাস্তি দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এটা স্পষ্ট যে দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে এবং আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে একতরফাভাবে নির্বাচনে নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করার নীলনকশা নিয়েই এই অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সরকার।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে কারাগারের অভ্যন্তরের বিচারালয় মুক্ত, দরজা খোলা। জেলগেটের ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রবেশের সুযোগ নেই। তাহলে এটা কিভাবে উন্মুক্ত? প্রধানমন্ত্রী জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য এমনটা বলছেন। এটা সত্যের অপলাপ।

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মাসুদ অরুণ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য