kalerkantho


ওবায়দুল কাদের বললেন

আ. লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর

ফাইল ছবি

বিএনপি ও যুক্তফ্রন্টের জাতীয় ঐক্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে আমরা ডাক দেব। এখন আমরা জনগণের ঐক্য চাই। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাই এই বড় দলের সমর্থক ও ভোটারদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় নাকি?’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলীয় কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক মতবিনিময়সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন। সংসদ নির্বাচনের আগে দলের রাজশাহী মহানগর ও জেলা নেতাদের সঙ্গে তিনি এই মতবিনিময়সভা করেন। সভায় আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন ও আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল উপস্থিত ছিলেন।

‘নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ ইসির জন্য বিব্রতকর’ : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এরই মধ্যে জানিয়েছেন যে আগামী ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের জন্য বিব্রতকর হয়েছে। এটা বলার দায়িত্ব আমাদের নয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ নয়। নির্বাচন কমিশনই বলবে কবে নির্বাচন হবে। এটা বলার দায়িত্ব সরকার কিংবা কোনো মন্ত্রীর নয়।’

‘আমিও জানি না’ : ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, আকার কী হবে, কেবিনেটে কতজন থাকবে—এসব বিষয় একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এ বিষয়ে আর কেউ জানেন না। আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক, আমিও এখন পর্যন্ত জানি না। তিনি বলেন, ‘আমাদের যার যার এরিয়ার মধ্যে সীমিত থেকে রেসপনসিবল ভূমিকায় থাকলে তা দেশ, গণতন্ত্র ও সরকারের জন্য ভালো।’

মনোনয়ন বিষয়ে সতর্ক বার্তা : দলে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, রেসপনসিবল লিডাররা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়লে কর্মীরা কী শিখবে? নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকতেই পারে। শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন তা তো নয়, অন্যরাও চাইতে পারেন। চা দোকানে বসে গ্রুপ মিটিং করে দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে, যেটা হওয়ার কথা ছিল বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে আত্মঘাতী কিছু হতে পারে না। এ আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।

তিনি বলেন, অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জরিপ রিপোর্ট আছে, এসিআর আছে, ছয় মাস পর পর সেসব আপডেট হচ্ছে। ইতিমধ্যে সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই-বাছাই করছে। জনমতের ভিত্তিতেই আমাদের মনোনয়ন দিতে হবে। যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তিনিই মনোনয়ন পাবেন। নির্বাচন আর দল এক কথা নয়। কর্মী যদি জনমতে প্রভাবশালী নেতার চেয়েও গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে দল তাঁকে মূল্যায়ন করবে।

রাজশাহীর নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনো কমিটি আপনারা ভাঙতে পারবেন না। নতুন কোনো কমিটিও করা যাবে না। নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করাটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।’



মন্তব্য