kalerkantho


রাষ্ট্রপক্ষের জবাবদান শুরু এর পরই রায়ের তারিখ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাষ্ট্রপক্ষের জবাবদান শুরু এর পরই রায়ের তারিখ

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে আইন বিষয়ে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর এখন রাষ্ট্রপক্ষ জবাব দিচ্ছে। এর পরই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবেন বিচারক। গত বছর ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি করে। পরে ছিল আসামিপক্ষের শুনানি। গতকাল বুধবার ছিল যুক্তিতর্ক শুনানির ১১৪তম দিন।

গতকাল সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে শুনানি শেষ করেন। গতকাল তিনি আবদুস সালাম পিন্টুর পক্ষেও শুনানি করেন। এর মাধ্যমে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানিও শেষ হলো। এখন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল জবাব দেওয়া শুরু করেছেন। আগামী ১০, ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

গতকাল আসামি বাবরের পক্ষে আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, মামলার অন্যতম আসামি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের একটি স্বীকারোক্তির জের ধরে বাবরকে জড়ানো হয়েছে। ফৌজদারি মামলায় এক আসামির স্বীকারোক্তি আরেক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় না উল্লেখ করে তিনি দেশ-বিদেশের উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী সহ-আসামিকে ওই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ড দেওয়া যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যান্য সাক্ষী ওই স্বীকারোক্তি সমর্থন করবে। এখানেও মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তি অন্য কোনো আসামির স্বীকারোক্তি বা কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত হয়নি। আইনজীবী এস এম শাহজাহান আরো বলেন, বাবর সাহেব পিন্টুর বাসায় এবং হাওয়া ভবনে ষড়যন্ত্রমূলক মিটিংয়ে গিয়েছেন বা পিন্টুর বাসায় ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং হয়েছিল এ সম্পর্কে অন্য কোনো সাক্ষী বা আসামি হান্নানের বক্তব্য সমর্থন কেউ সাক্ষ্য দেননি।

আসামিপক্ষের এই আইনজীবী আরো বলেন, ‘আদালতে ওই নারকীয় হামলাকে সমর্থন করতে আমি আসিনি। এই ঘটনার বিচার আমিও চাই। আমি দেশের প্রচলিত আইন ও দেশ-বিদেশের উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তুলে ধরেছি। আমি তাঁদের (পিন্টু ও বাবর) জীবনের ১২টি বছর ফিরিয়ে দিতে বলব না। তাঁরা নির্দোষ, আমি তাঁদের খালাস চাই।  এখন আপনার (বিচারক) ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় রইলাম।’ এস এম শাহজাহানের বক্তব্য শেষ করার পর বাবরের আরেক আইনজীবী নজরুল ইসলাম আসামি বাবরের পক্ষে লিখিত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল জবাব দেওয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, মামলার যেকোনো স্তরে ন্যায়বিচারের স্বার্থে অধিকতর তদন্ত করা যায়। তিনি বলেন, এ মামলায় প্রথম অভিযোগপত্র দাখিলের পর আবারও তদন্ত হয়। ওই তদন্তে ঘটনার বিষয়ে ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্রের স্থান ও জড়িতদের সম্পৃক্ততার বিষয় বেরিয়ে আসে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ২১ আগস্ট ঘটনা ঘটানোর ব্যাপারে দুটি অভিপ্রায় স্পষ্ট—প্রথমত. আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা; দ্বিতীয়ত. দেশকে আবারও পাকিস্তান বানানো। তিনি বলেন, আর্জেস গ্রেনেডের মতো যুদ্ধাস্ত্র তথা সমরাস্ত্র দিয়ে নিরস্ত্র মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মো. আবু আব্দুল্লাহ্ ভুঁইয়া, অ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা, আমিনুর রহমান, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিশেষ এজলাসে এসংক্রান্ত দুই মামলার কার্যক্রম চলছে।



মন্তব্য