kalerkantho


সিএমপি কমিশনার বললেন

মাদক নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে জীবনহানি হতেই পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মাদক নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে জীবনহানি হতেই পারে

ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদক কারবারিদের কঠোর হাতেই দমন করতে হবে। আর তাতে প্রাণহানি হলেও কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মাহবুবর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘শান্তির জন্য অশান্তির জীবনহানি হতে পারে। তারা (মাদক কারবারি) অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের মোকাবেলা করতে চায়। আমাদের হাতেও অস্ত্র আছে। সেই অস্ত্র ব্যবহারের অধিকারও আমাদের আছে। সুতরাং মাদক নিয়ন্ত্রণে জীবনহানি হতে পারে।’

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে কোতোয়ালি থানা কমিউনিটি পুলিশিং আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মূল বিষয় হলো মাদক কারবারিদের কোনো ধর্মীয় উপদেশ দিয়ে কাজ হবে না। একমাত্র সে যদি মনে করে এই কারবারে জীবনহানির আশঙ্কা আছে তাহলেই সে এই কারবার ছাড়বে।’

মাহবুবর রহমান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে মাদক চোরাকারবারিদের দমন করছে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে মানবাধিকারকর্মীরা। বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের এসব ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যা হিসেবে বর্ণনা করে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে তারা। অন্যদিকে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। মাদকের সঙ্গে যুক্ত কেউ ছাড় পাবে না।

ইয়াবা ব্যবসায় পুলিশের জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না মন্তব্য করে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনজন এসআইকে হাতকড়া পরিয়ে জেলে পাঠিয়েছি। আমার অবস্থান স্পষ্ট, যে বা যারা ইয়াবার সঙ্গে যুক্ত তারা পুলিশের কেউ না। পুলিশ ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু ইয়াবার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। ইয়াবা ব্যবসা করতে হলে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিতে হবে।’

মিয়ানমার থেকে ইয়াবার প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা ১২০ কিলোমিটার সীমান্ত রক্ষা করতে পারলে ইয়াবা দেশে ছড়িয়ে পড়ত না। সীমান্তের একটি পয়েন্টে যদি ১০ লাখ ইয়াবা ঠেকানো যেত তাহলে সেগুলো এক শ জায়গায় ছড়িয়ে পড়ত না।’ তিনি বলেন, ‘সব দোষ যেন পুলিশের। অথচ যাদের ব্যর্থতার কারণে ইয়াবা দেশে প্রবেশ করছে তাদের নাম কেউ মুখে আনে না। বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকেও ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। আশা করব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড শক্তিশালী হবে এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে।’

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের সহযোগিতা চেয়ে মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আগুন-সন্ত্রাস, অরাজকতা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ নিয়ে সতর্ক থাকবেন। আমরা সব ধরনের সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখব। সেই অভিযানে আপনাদের সহযোগিতা চাই।’

কোতোয়ালি থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আহ্বায়ক এ এস এম সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম, উপকমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন, কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যসচিব অহিদ সিরাজ স্বপন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।



মন্তব্য