kalerkantho


নিরাপত্তার নামে রাখাইনে বাড়ছে সেনা উপস্থিতি

কোনো ফাঁদে পা দেবে না বাংলাদেশ

মেহেদী হাসান   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপত্তার নামে রাখাইনে বাড়ছে সেনা উপস্থিতি

নিরাপত্তা জোরদারের নামে মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে সেনা উপস্থিতি ক্রমেই জোরদার করছে। মিয়ানমার টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ আগস্ট ‘রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী’ আরসার কথিত হামলার বার্ষিকী। এর প্রাক্কালে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে কারফিউয়ের মেয়াদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৯ থেকে ১০টি লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন রয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে প্রবল আন্তর্জাতিক চাপে পড়েছে। তারা এখন কোনো না কোনো ছুতায় সীমান্তে সংঘাত বাধিয়ে রোহিঙ্গা সংকটকে আড়াল করতে চাচ্ছে।

জানা গেছে, গত বছরের ২৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমার ১৭ বার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, তখনও সীমান্তে সংঘাত বাধিয়ে রোহিঙ্গা সংকট আড়ালের চেষ্টা করেছিল মিয়ানমার। কিন্তু বাংলাদেশ মিয়ানমারের ওই ফাঁদে পা দেয়নি। আগামীতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের কোনো ফাঁদে পা না দিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ব্যাপারেই কাজ করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র এ সপ্তাহে মিয়ানমারের চারজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার পাশাপাশি দুটি ব্যাটালিয়নের প্রত্যেক সদস্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবে না। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে কোনো দিন বিচারের সুযোগ সৃষ্টি হলে তারা বিচারের আওতায় আসবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে (আইসিসি) সহযোগিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়ে বলেছে, এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার আছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গা নিপীড়নের হোতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ কাজ করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তা ছাড়া আগামী ২৮ আগস্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরো জানায়, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের এক বছর পরও এ ইস্যু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভুলে যায়নি। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রভাবশালী দেশ রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের যেভাবে চিহ্নিত করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসা শুরু করেছে তা মিয়ানমার বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা। গত বছরের শেষ দিকে মাত্র একজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এবার দুটি ব্যাটালিয়ন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসার পর আগামীতে মিয়ানমারের পুরো সেনাবাহিনীর ওপরই নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী অন্য ইস্যু সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল রবিবার রোহিঙ্গা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর আরো আন্তর্জাতিক চাপ প্রত্যাশা করেছে।

জানা গেছে, নিরাপত্তা পরিষদে চীন এখনো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব গ্রহণে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করছে। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য সিরিয়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যান্ড ইমপারশিয়াল মেকানিজমের’ (আইআইআইএম) আদলে কাঠামো গড়তে বাংলাদেশ কাজ করছে।্র

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী গঠিত এই কাঠামোর আওতায় তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হবে। ভবিষ্যতে যখন বিচারের সুযোগ সৃষ্টি হবে তখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদই আদালতে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করবে।



মন্তব্য