kalerkantho


সড়কে নিঃশেষ আরো তিন শিক্ষার্থীর প্রাণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



সড়কে নিঃশেষ আরো তিন শিক্ষার্থীর প্রাণ

এবার দিনাজপুর, মাদারীপুর ও সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তিন শিক্ষার্থী। তিন শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় তিন স্থানেই সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। এদিকে নওগাঁ, হবিগঞ্জ ও ভৈরবে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

দিনাজপুর : দিনাজপুরের আমবাড়ীতে গতকাল রবিবার সকালে ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে অন্তর রায় (৯) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্য এক শিক্ষার্থী ও তার বাবা। এ ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। অন্তর চিরিরবন্দর উপজেলার দক্ষিণ বিশ্বনাথপুর গ্রামের কুমুদ রায়ের ছেলে। আহতরা হলো একই গ্রামের শিক্ষার্থী আদিত্য চন্দ্র রায় ও তার বাবা যতিন চন্দ্র রায়। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

জানা যায়, যতিন চন্দ্র রায় তাঁর ছেলে আদিত্য চন্দ্র রায়কে বাইসাইকেলের সামনে ও ছেলের বন্ধু অন্তর রায়কে পেছনে ক্যারিয়ারে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। এ সময় আমবাড়ী বাজারের পাশে বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রলি বাইসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে অন্তর রায় ছিটকে রাস্তার ওপর পড়লে ট্রলিটি তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। এ ঘটনার পর মেরিগোল্ড প্রিপারেটরি কিন্ডারগার্টেনের স্কুলের শিক্ষার্থীরা আমবাড়ীতে মহাসড়ক অবরোধ করে। তারা রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক বন্ধ থাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

মাদারীপুর : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের কালকিনির ডাসারের কর্ণপাড়ায় গতকাল রবিবার বিকেলে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের মুদি দোকানে ঢুকে পড়লে ঘটনাস্থলেই স্কুলছাত্রী ইমা আক্তার (৭) নিহত হয়। সে কর্ণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ও মুদি দোকানদার এমারত হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো পাঁচজন।

এদিকে দুর্ঘটনার পরে এলাকাবাসী গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এতে দুই পাশে প্রায় পাঁচ শতাধিক গাড়ির জট বেঁধে যায়। পরে পুলিশ এসে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু মারা গেছে। আরেক শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ : বাড়ি থেকে শহরে আসার পথে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের বিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মুন্নি আক্তার। গতকাল রবিবার দুপুরে দিরাই মদনপুর সড়কের নারায়ণপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কিছুক্ষণ সড়ক অবরোধ করে। তারা ঘাতক বাসটি আটকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মুন্নি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের গাজীনগর গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ে। জানা যায়, মুন্নি আক্তার রবিবার দুপুরে গাজীনগর থেকে অটোরিকশাযোগে আত্মীয়দের সঙ্গে সুনামগঞ্জ শহরে আসছিলেন। নারায়ণপুর পৌঁছার পর সিলেট থেকে দিরাইগামী একটি বাসের সঙ্গে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগলে ঘটনাস্থলেই মুন্নি মারা যান। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসটি আটকে সড়ক অবরোধ করলে পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা বাসটিকে আটক করেছি।’

নওগাঁ : মান্দায় ট্রাকচাপায় জাকিরুল ইসলাম (৩০) নামে এক এনজিওকর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে মান্দা-নিয়ামতপুর রাস্তায় বালুবাজার কলেজ মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাকিরুল রাজশাহীর তানোরের বাউরিগ্রাম এলাকার সামসুল আলমের ছেলে। তিনি আবাস নামে একটি বেসরকারি সংস্থার নিয়ামতপুর শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মান্দা থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের অলিপুরে গত শনিবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আব্দুল মোতালিব (৩৮) নামে এক ঠিকাদারের মৃত্যু হয়েছে।

হাওরাঞ্চল : গাছের সঙ্গে গরুবোঝাই ট্রাকের ধাক্কা লেগে মো. ফেলাউদ্দিন (৩০) নামে এক রাখালের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ভৈরবের শুম্ভুপুর পাক্কার মাথা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ফেলাউদ্দিন রংপুরের পীরগঞ্জের চর রাঙামাটি গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে।

বেনাপোল (যশোর) : যশোরের নাভারনে ট্রেন-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে প্রাইভেট কার চালক তরিকুল ইসলাম (৩৫) আহত হয়েছেন। রবিবার সকালে বেনাপোল থেকে ছেড়ে যাওয়া খুলনাগামী কমিউনিটি ট্রেন নাভারন হাসপাতাল রোড রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।  আহত তরিকুল ইসলাম শার্শা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।



মন্তব্য