kalerkantho


নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

৪২ ছাত্রের জামিন ৯ জনের মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি    

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



৪২ ছাত্রের জামিন ৯ জনের মুক্তি

ঢাকার সিএমএম কোর্টে গতকাল ৪২ শিক্ষার্থীর জামিন লাভের খবরে সহপাঠী ও স্বজনদের উল্লাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৪২ শিক্ষার্থী জামিন পেয়েছেন। গতকাল রবিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভিন্ন ভিন্ন আদেশে এই জামিন দেন। পরে আদালত থেকে জামিন আদেশ কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছালে সন্ধ্যার পর ৯ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জামিন আদেশের কাগজ কেন্দ্রীয় কারাগারে না পৌঁছায় বাকি ছাত্ররা গতকাল ছাড়া পাননি। মুক্তি পাওয়া ছাত্ররা হলেন রেজা রিফাত আখলাখ, ফরিদ হোসেন, মেহেদী হাসান, মুসফিকুর রহমান, সীমান্ত সরকার, ইফতেদার হোসেন, ইফতেখার আহমেদ, মো. হাসান ও সামাদ মর্তুজা বিন আহমেদ।

পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে করা রাজধানীর বাড্ডা ও ভাটারা থানার দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ ছাত্র, ধানমণ্ডি  থানার করা তিন মামলায় ৯ ছাত্র, পল্টন থানার মামলায় একজন, উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় তিনজন, নিউ মার্কেট থানার মামলায় তিনজন, শাহবাগ থানার মামলায় দুজন ও রমনা থানার মামলায় তিনজনকে জামিন দেওয়া হয়। 

গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপা দিয়ে হত্যা করার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের আশপাশে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, নর্দা-কালাচাঁদপুর এলাকা ও আফতাবনগর এলাকায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গাড়ি চলাচলে বাধা দেয়। লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল ছুড়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে, কর্তব্যকাজে বাধা দেয়। এ সময় ২২ ছাত্রকে আটক করে ভাটারা ও বাড্ডা থানায় দুটি মামলা করা হয়। এই ২২ শিক্ষার্থীর মধ্যে বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথইস্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রয়েছেন। এর মধ্যে বাড্ডা থানার এক মামলায় ১৪ জন, ভাটারা থানার আরেক মামলায় আসামি আটজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় গত ৯ আগস্ট। গত কয়েক দিন কয়েক দফা জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর হয় বারবার।

গতকাল বাড্ডা থানার মামলায় যেসব শিক্ষার্থী জামিন পান তাঁরা হলেন রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এ এইচ এম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও এম ডি হাসান। অন্যদিকে ভাটারা থানার মামলায় আজিজুল করিম অন্তর, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার ও সাখাওয়াত হোসেন জামিন পেয়েছেন।

ধানমণ্ডি থানার মামলায় জামিন পাওয়া ৯ জন হলেন সোহাদ খান, মাসরিকুল আলম, তমাল সামাদ, ওমর সিয়াম, মাহমুদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, ইকবাল হাসান, মিনহাজ রহমান ও নাইমুর রহমান।

উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় মাহবুব খান রনি, তোফায়েল আহমেদ ও আশিক; কোতোয়ালি থানার মামলায় মেহেদী, জাহিদুল ইসলাম ও মো. দুলালকে জামিন দেওয়া হয়। পল্টন, নিউ মার্কেট, শাহবাগ ও রমনা থানার জামিন পাওয়া ছাত্রদের নাম জানা যায়নি।

গতকাল জামিন শুনানির সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্বজনরা উপস্থিত ছিল। জামিন পাওয়ার খবরে তারা আনন্দে কেঁদে ফেলে। বাড্ডা থানায় গ্রেপ্তার জাহিদুল হকের বোন জাফরিন হক ও তাঁর বাবা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভাইয়ার জামিন আদেশ পেয়ে জাফরিন চিৎকার দেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাবা বাড়িতে ফোন করে জানান জাহিদ জামিন পেয়েছেন।

ধানমণ্ডি থানার মাহবুব খান রবিনের মা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। এ মাসুদ খান ভাটারা থানার মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বাবা। তিনি আদালতের বারান্দায় কান্নাকাটি করেন। পরে শিক্ষার্থীদের স্বজনরা দলবেঁধে আদালতের নিচে এসে উল্লাস প্রকাশ করেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯৯ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবারও অনেকের পক্ষে জামিন শুনানি করা হবে বলে আইনজীবীরা জানান।



মন্তব্য