kalerkantho


ঈদ যাত্রা

গাদাগাদিতে গরমে ‘সিদ্ধ’ ট্রেনযাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



গাদাগাদিতে গরমে ‘সিদ্ধ’ ট্রেনযাত্রীরা

কমলাপুর রেলস্টেশনে গতকাল ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার নিয়মিত আন্ত নগর ট্রেন দুটি। একটি সুন্দরবন এক্সপ্রেস। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময় সকাল ৬টা ২০ মিনিট। গতকাল শনিবার কমলাপুর থেকে এটি ছাড়ে সকাল ৮টা ৭ মিনিটে। দুপুর ২টায় ট্রেনটি মুলাডুলি অতিক্রম করছিল। তখন পর্যন্ত ট্রেনের বিলম্ব ছিল সোয়া তিন ঘণ্টা।

আগাম টিকিটে গতকাল কমলাপুর থেকে একে একে ৩১টি আন্ত নগর ট্রেন ছেড়ে যায় বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে। ছাড়ে চারটি বিশেষ ট্রেন। গতকাল সকাল থেকেই ভিড় ছিল কমলাপুর রেলস্টেশনে। ভিড় আরো বাড়তে থাকে দুপুর ও বিকেল থেকে। আন্ত নগর ৩১টি ট্রেনসহ ৬৮টি ট্রেন ছেড়ে যায় কমলাপুর থেকে। বেশির ভাগ ট্রেন ছাড়ে দেরিতে। গতকাল কমলাপুর থেকে ছাড়ে চারটি বিশেষ ট্রেন। বিশেষ ট্রেন লালমনিরহাট এক্সপ্রেসও সকাল সোয়া ৯টার বদলে ছাড়ে সকাল সাড়ে ১১টায়। কমলাপুর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ধূমকেতু ট্রেনের সকাল ৬টায় ছেড়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ছিল। সেটি ছাড়ে এক ঘণ্টা দেরিতে। সকাল ৮টার চিলাহাটিগামী নীলসাগর সকাল ১০টায় ছাড়ে। সকাল ৯টার রংপুর এক্সপ্রেসও ছাড়ে ঘণ্টাখানেক দেরিতে। সিলেটের উদ্দেশে জয়ন্তিকা

ট্রেনের ছাড়ার কথা ছিল দুপুর ১২টায়, সেটি ছাড়ে দুপুর ২টায়। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মোট ৩৯টি ট্রেন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন কমলাপুর রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিকেলের মধ্যেই ট্রেনের সময়সূচি ঠিক করার চেষ্টা করব।’ তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকেলেও সময়সূচি ঠিক হয়নি।

কমলাপুর থেকে নোয়াখালী যাওয়ার আন্ত নগর ট্রেন উপকূলের ছাড়ার সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিট। সেটি এক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। ওই ট্রেনে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে আসতে আসতেই দেখা গেল, বিভিন্ন বগিতে আসন ছাড়াও দাঁড়িয়ে রওনা হয়েছে যাত্রীরা। মাথার ওপর ফ্যান ঘুরছিল। তবু তারা বসে, দাঁড়িয়ে ঘামছিল। তীব্র তাপে ট্রেনের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছিল। ট্রেনের ইঞ্জিনের ঘর, বাথরুমের পাশে, দরজার কাছে—সর্বত্র যাত্রী আর যাত্রী। ৭০১৭ নম্বর বগিতে গেলে দেখা গেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রী তিতলি ও তিশা পাশাপাশি বসে একজন আরেকজনকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। তাঁরা জানান, ট্রেন ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের আধাঘণ্টা আগে থেকেই তাঁরা স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। ট্রেনে ওঠার পর ৩০ টাকা করে দুজনে দুটি হাতপাখা কিনেছেন।

গরম থেকে রেহাই পেতে হাতপাখা বিক্রেতাদের দেখা গেল হাঁক ছাড়তে। তাদের একজন নুর আলম বলেন, ‘৩০ টাকা করে এ ট্রেনে আধাঘণ্টায় ৪০টি পাখা বিক্রি করেছি।’



মন্তব্য