kalerkantho


কোটা সংস্কার আন্দোলন

তরিকুল রিমান্ডে দুজনের জামিন আবেদন নাকচ

হামলাকারীদের বিচার দাবি শিক্ষকদের একাংশের

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



তরিকুল রিমান্ডে দুজনের জামিন আবেদন নাকচ

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের নেতা তরিকুল ইসলামকে এক দনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গতকাল মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের দুই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুদ আলম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহেল ইসলাম ওরফে সুহেলের জামিন আবেদন আদালত নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাঞ্ছনা ও শিক্ষার্থীদের মারধরের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ। ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তরিকুল ইসলামকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের কর্মীরা গত ২ জুলাই তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর তাঁকে শাহবাগ থানায় দায়ের করা এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

তরিকুলকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বাহাউদ্দিন ফারুকী। আদালত ১০ জুলাই তরিকুলের উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেন। কিন্তু ওই দিন তিনি অসুস্থ থাকায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়নি। পরে গতকাল রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এদিন তরিকুলকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কায়সারুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুজনের জামিন আবেদন নাকচ : কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেওয়ার দুই মামলায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ঢাবির ছাত্র মাসুদ আলম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেল ইসলাম ওরফে সুহেলের জামিন আবেদনের ওপর গতকাল একই আদালতে শুনানি হয়। আদালত দুজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে তাঁদের এসব মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে দুজনই কারাগারে বন্দি।

শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) শিক্ষক লাউঞ্জে গতকাল দুপুরে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাঞ্ছনা ও শিক্ষার্থীদের মারধরের প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানানো হয়। দাবি আদায়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক খান, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দীন খান, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনাসির কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুত্ফা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেওয়া চার দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১৯ জুলাই সকাল ১১টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শিক্ষকদের সংহতি সমাবেশ, ২৩ জুলাই কলাভবনের সামনে বটতলায় নিপীড়নবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষক লাঞ্ছনার পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিকে চিঠি দেওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা রক্ষা, একাডেমিক মান সমুন্নত রাখা এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।

লিখিত বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুত্ফা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিভিন্ন দল ও মতের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন সরকারের শিক্ষার্থী সংগঠনের উপস্থিতি ছিল। কিন্তু সমপ্রতি কোটা সংস্কারের জন্য প্রজ্ঞাপন দাবি করা হলে হঠাৎ করেই নানামুখী দমন চেষ্টা শুরু হয়েছে। আন্দোলনে যুক্তদের ‘বাম ঘরানার শিবির’, ‘জঙ্গির মতো’, ‘জামায়াত-শিবির’ ইত্যাদি অভিধায় ডাকা হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো—নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে না।

আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, ‘সরকারের যে মন্ত্রী যাই বলুন না কেন, আমি নির্দ্বিধায় বলতে চাই যে এরা ছাত্রলীগের কর্মী। এরা গুণ্ডা বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে। শিক্ষকদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ নেই। এরা ছাত্রলীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানে না। ক্যাম্পাসে এরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে অথচ প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

স্মারকলিপি প্রদান : এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর একের পর এক হামলায় চিহ্নিতদের বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা’। গতকাল সকালে উপাচার্য কার্যালয় মিলনায়তনে উপাচার্যের কাছে তারা এই স্মারকলিপি দেয়। এ সময় নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পাঠ করে শোনান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান খান। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য