kalerkantho


‘দেনাদার ছেড়ে আদালতে গিয়েও ঘাম ঝরে’

আশরাফ-উল-আলম   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘দেনাদার ছেড়ে আদালতে গিয়েও ঘাম ঝরে’

‘পাওনা টাকা পেতে দেনাদারের পেছনে ছুটতে হয়। আবার আইনের আশ্রয় নিয়ে আদালতেও ছুটতে ছুটতে ঘাম ঝরে। তার পরও রেহাই মেলে না। এই ভোগান্তি আর হয়রানি চলতে থাকে দিনের পর দিন।’ চেক প্রতারণা মামলার বাদী রেজাউল করিম গত ১৬ জুলাই ঢাকার পরিবেশ আদালত থেকে বের হয়ে এসব কথা বলছিলেন।

রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাওনা ছয় লাখ টাকা আদায়ের জন্য মামলা করেছিলাম ২০১৪ সালে। মামলার বিচারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রায় ঘোষণা বাকি। এই রায়ের জন্য চারটি তারিখ পার হয়ে গেছে। কিন্তু আদালত রায় ঘোষণা করছেন না। আসামি উপস্থিত না থেকে বারবার সময় প্রার্থনা করে। আদালতও তা মঞ্জুর করেন। এভাবেই মামলা চলছে।’ এই বাদী বলেন, ‘আমি চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার। দেনাদারের পেছনে ছুটতে ছুটতে হয়রান হতে হয়। আদালতেও যদি একই রকম হয়রানির শিকার হতে হয় তাহলে আর কিছু বলার থাকে না। আমাদের উপায়ও নেই। টাকা আদায়ের জন্য এভাবেই লেগে থাকতে হবে।’

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, হেকেম (বাংলাদেশ) লিমিটেড নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রেজাউল করিম। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য বিক্রি করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বাকিতে পণ্য কেনেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের খাসেরহাটের (চরবাটা) মেসার্স তানিশা এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ আসাদুল হক। অনেক টাকার পণ্য বাকিতে নেওয়ার পর আসাদুল হক ছয় লাখ টাকা পরিশোধের জন্য বাদীর প্রতিষ্ঠানকে ২০১৪ সালের ১১ মে নোয়াখালীর চরবাটা শাখা সোনালী ব্যাংকের একটি চেক দেন। বাদী চেকটি নগদায়ন করতে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসির গুলশান শাখায়  জমা দেন। পরে ওই ব্যাংক থেকে জানানো হয় যে আসাদুল হকের ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই।

এ ঘটনায় সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রেজাউল করিম ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চেক প্রতারণার অভিযোগে আসাদুল হককে আসামি করে মামলা করেন। আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়ার পর বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে স্থানান্তর করা হয়। মহানগর দায়রা জজ আবারও মামলাটি পরিবেশ আদালতে স্থানান্তর করেন। এই আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ২ নভেম্বর রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবার রায় থেকে উত্তোলন করে যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করা হয়। আবার রায়ের তারিখ ধার্য করা হয় ২৫ মে। ওই দিন আসামি হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেন। তারিখ ধার্য হয় ১৬ জুলাই। ওই দিনও আসামি হাজির হননি। কিন্তু আদালত তারিখ পরিবর্তন করে দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী সঞ্জীব চন্দ্র দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে। ওই দিনও রায় ঘোষণা না-ও করতে পারেন আদালত। কারণ গত তারিখে বাদীর কাছে বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়েছেন বিচারক শওকত হোসেন। আগামী তারিখে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। আগামী ধার্য তারিখে কাগজপত্র পরীক্ষা করলে আদালত ওই দিন রায় দেবেন কিভাবে?

অ্যাডভোকেট সঞ্জীব আরো বলেন, ‘এই মামলায় পরপর রায়ের তারিখ পরিবর্তন করা মানে বাদীকে হয়রানি করা। আসামির সময়ের আবেদন নিয়ে কোনো আইনজীবী শুনানি করেন না। আদালত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন।’

 



মন্তব্য