kalerkantho


গোল্ডেন বুট কেইনেরই

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



গোল্ডেন বুট কেইনেরই

অবশেষে একটি পুরস্কার উঠল ইংলিশ অধিনায়কের হাতে। কাপ নয়, সোনার বুট নিয়ে ফিরছেন তিনি। ’৮৬-তে গ্যারি লিনেকার প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। তাঁর পর এই কেইনই গড়লেন সেই কীর্তি। যে কীর্তি নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন অনেক।

গত বিশ্বকাপে হামেস রোদ্রিগেস জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার সেরা সাফল্য সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা, রোদ্রিগেসের ছয় গোলের তাতে বড় অবদান। সুন্দর গোলের পুরস্কার থাকলেও হয়তো বা এই কলম্বিয়ানই জিততেন তা। তার আগেরবার থমাস ম্যুলার জিতেছিলেন। পরেরবার জার্মানির চ্যাম্পিয়নশিপের ভিত গড়া হয়েছিল ২০১০-এর ওই আসরেই। ম্যুলার সেখানেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। ২০০৬-এ মিরোস্লাভ ক্লোসার জার্মানি ছিল   সেমিফাইনালে। ২০০২-এ রোনালদো তো বিশ্বকাপই জিতেছিলেন। এই কীর্তিমানদের সঙ্গে কেইনকে মেলানো যাচ্ছে না। তিনি ফিরিয়ে আনছেন ওলেগ সালেঙ্কোর স্মৃতি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রিস্টো স্টয়োচকভের সঙ্গে যুগ্মভাবে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এই রাশিয়ান। স্টয়োচকোভের বুলগেরিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে খেললেও রাশিয়া সে আসরে বাদ পড়ে গ্রুপ পর্বেই। সালেঙ্কোর ছয়টি গোলই তাই গ্রুপ পর্বে। ক্যামেরুনের বিপক্ষে এক ম্যাচেই তিনি পাঁচবার বল পাঠিয়েছিলেন জালে। এবারের কেইন তাঁর ছয় গোলের পাঁচটিই করেছেন তিউনিসিয়া, পানামার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে। ছয় গোলের তিনটিই আবার পেনাল্টি থেকে, একটি ট্যাপ ইন, একটি হেড। একমাত্র যে গোলটি হয়েছে ওপেন প্লে থেকে সেটিওতে তাঁর কতখানি অবদান তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। রুবেন লফটাস-চিকের জোরালো শট বক্সের ভেতর দাঁড়ানো কেইনের পায়ে লেগে দিক বদলে ঢুকে যায় জালে। পানামার বিপক্ষে ৬-১ গোলে জেতা ম্যাচে সেটি হ্যাটট্রিক পূরণ করা গোল ইংলিশ অধিনায়কের। আগের দুটিই পেনাল্টি থেকে। প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলও তাঁর সেট পিসে। অ্যাশলি ইয়াংয়ের কর্নারে জন স্টোনসের হেড গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেওয়ার পর সেই ফিরতি বলটাই জালে পাঠিয়ে দলকে প্রথম এগিয়ে দিয়েছিলেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকেই হেডে তাঁর দ্বিতীয় গোলটি। সরাসরি হেডও নয়। হ্যারি ম্যাগুয়ারের লক্ষ্যভ্রষ্ট হেডটিই পোস্টের কাছে দাঁড়িয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন জালে।

এরপর নক আউট পর্বে একমাত্র গোল তাঁর কলম্বিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে। নক আউট পর্বের শুরু থেকে তাঁর সঙ্গে সোনার জুতা জয়ের লড়াইয়ে ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও রোমেলু লুকাকু। রোনালদোর পর্তুগাল উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছে, রোনালদো স্কোরশিটে নাম তুলতে পারেননি সে ম্যাচে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ পর্যন্ত লুকাকু তাঁর পিছু ধাওয়া করছিলেন। জাপান ও ব্রাজিলের বিপক্ষে অসাধারণ খেলেও তিনি গোল পাননি, কেইনের বিপক্ষে মুখোমুখি শেষ ম্যাচে ছিলেন নিষ্প্রভ। কেইন নিষ্প্রভ আরো বেশি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাঁর বাজে পারফরম্যান্সই ইংলিশদের পীড়া দিয়েছে সবচেয়ে বেশি। তাতেই শেষ হয়ে গেছে তাদের বিশ্বকাপ ঘরে ফেরানোর স্বপ্ন। গোলসংখ্যায় অন্তত কেইনকে ছুঁতে ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানকে হ্যাটটিক করতে হতো। সেটা না হওয়াতেই কেইনের হাতেই সোনার বুট।

ক্লাব রেকর্ডে চোখ বুলালে ইংলিশ স্ট্রাইকারের এমন অর্জনে প্রশ্ন নেই। প্রিমিয়ার লিগের শেষ তিন মৌসুমের দুইবারই যে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। গত মৌসুমেও করেছেন ৪১ গোল। ফিফা

 



মন্তব্য