kalerkantho


ঈদে স্বজনদের সান্নিধ্যে খালেদা খেলেন বাসার রান্না

দলের নেতারা সাক্ষাৎ পাননি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০




ঈদে স্বজনদের সান্নিধ্যে খালেদা খেলেন বাসার রান্না

ফাইল ছবি

ঈদের দিন দুপুরে কারাগারে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আসা খাবার খান বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। স্বজনদের সান্নিধ্যে তাঁর ‘অন্য রকম’ দিন কাটে। তবে তাঁকে খাবার খেতে হয় কিছুটা বিলম্বে। সাধারণত খালেদা জিয়া খাবার খান দেড়টার মধ্যে। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ স্বজনদের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করে দুপুর ২টায়। ফলে তিনি অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা কখন আসবে।

এদিকে ঈদের দিন স্বজনরা খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পেলেও বিএনপি নেতারা সে সুযোগ পাননি। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। কারাগারের মূল ফটক থেকে প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে দেয়। সেখানে দুই শতাধিক নেতাকর্মীও অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেয়।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন রোডের পুরনো কারাগারে দুপুর সোয়া ২টায় আসেন খালেদা জিয়ার প্রয়াত ভাই সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার ও তাঁর ছেলে শামস এস্কান্দার, শাফিন এস্কান্দার, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ছেলে অভিক এস্কান্দার, এরিক এস্কান্দার, ভাগ্নি অরনি এস্কান্দার, অনন্যা এস্কান্দার, শাফিয়া ইসলাম, ভাগিনা সাজিদ ইসলাম, মো. মেহরাব, মো. আল মামুন প্রমুখ। আরো আসেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান বিন্দু ও তাঁর স্বামী শফিউজ্জামান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’র গৃহকর্মী ও গাড়িচালকও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। সব মিলে ২০ জন কারা ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা বেরিয়ে যায় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে। পরিবারের সদস্যরা বাসায় রান্না করে খাবার নিয়ে গিয়েছিল। খালেদা জিয়া ঈদের দিনে যেসব খাবার পছন্দ করেন সেগুলোই তারা নিয়ে গিয়েছিল। কারাগারে সদস্যদের প্রবেশের আগে ওই সব খাবার ভেতরে নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করার পর সদস্যদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়। বেগুনি-সাদা অর্কিডের একটি ফুলের তোড়া নিয়ে যায় স্বজনরা। এটি তারা খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেয়।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, খালেদা জিয়া বোন ও ভাইয়ের স্ত্রী ও স্বজনদের বুকে জড়িয়ে নিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ছোট ভাইসহ তাঁদের সন্তানরা খালেদা জিয়াকে পায়ে ধরে সালাম করে। এ সময় সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলে খালেদা জিয়া তাদের ‘আল্লাহ’র ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করতে বলেন। তিনি স্বজনদের নাম ধরে সবার খোঁজখবর নেন এবং বিশেষ করে বাচ্চারা কেমন আছে তা জানতে চান। পরিবারের সদস্যরা জানায়, নিজের কক্ষ থেকে অসুস্থ শরীর নিয়ে খালেদা জিয়া স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হতে সাক্ষাৎ কক্ষে আসেন। তাঁকে দুই পাশ দিয়ে দুজন ধরে নিয়ে আসে নির্ধারিত কক্ষে।

ঈদের দিন সকাল ১০টা থেকে কারাগারের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা কারাগারের সামনে আসবে—এমন কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা জোরদারে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

নেতারা সাক্ষাৎ পাননি

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নেতা বরকতউল্লা বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা কারাগারের কাছে যান। কারাগারের মূল ফটক থেকে প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। এ সময় ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী, এ দেশের মানুষের হূদয়ের মণি খালেদা জিয়াকে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ঈদের দিনে আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। তিন দিন আগে আমরা সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলাম (তিনি আবেদনের অনুলিপি দেখান)। নিয়ম আছে ঈদের দিন বন্দির সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু পুলিশ আমাদেরকে এখানে আটকিয়ে রেখেছে। জেলগেটের কাছেও যেতে দিচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

‘সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারছেন না খালেদা’

ঈদের পরের দিন রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা গতকাল (ঈদের দিন) দেশনেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন; তাঁদের কাছ থেকে যেটুকু আমরা জেনেছি তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। তা হচ্ছে—ওনার শারীরিক অবস্থার আগের চাইতে অবনতি ঘটেছে। এখন উনি সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারছেন না। ব্যক্তিগত কর্ম করার জন্য ওনার সাহায্য প্রয়োজন হচ্ছে। যে চোখের অপারেশন হয়েছে সেই চোখ লাল হচ্ছে আরো, ব্যথা বেড়েছে। ঘাড়ের ব্যথা বাম দিকে এতই বেড়েছে, হাতের আঙুলগুলো সার্বক্ষণিক ব্যথা করছে। এ কারণে হাত দিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে পারছেন না। কোমরের ব্যথা বাম পায়ের তলা পর্যন্ত এখন ছড়িয়ে পড়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল জেল সত্যিকার অর্থে একটা ওয়ারস্ট। এখানে এত বড় বড় ইঁদুর দৌড়ায়, এতগুলো বিড়াল ওখানে যারা ইঁদুর ধরে। আপনারা শুনলে হতবাক হবেন, ম্যাডামের ঘরের মধ্যে ওই বিড়াল বড় ইঁদুর ধরেছে। উনি তো এসব দেখে অভ্যস্ত নন। তেলাপোকা, ছারপোকা এটা কমন ব্যাপার। আরো আছে বড় বড় বিছা।’ সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবীর রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মাথা নত করার নেত্রী খালেদা নন : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, একজন রোগী যেখানে যথাযথ চিকিত্সা হবে সেখানেই যাবেন। এটা তো জীবনের প্রশ্ন, সুস্থ থাকার প্রশ্ন, জীবন-মরণের প্রশ্ন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তো বুঝতে পারছেন, তাঁর যথাযথ চিকিত্সা হবে ইউনাইটেডে। তাহলে সরকার কেন অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে, অন্য কথা বলছে? এই একগুঁয়েমি দুরভিসন্ধিমূলক। সরকারের কোনো নীলনকশার কাছে অতীতেও দেশনেত্রী মাথা নত করেননি, তিনি মাথা নত করার নেত্রী নন।

গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অগণতান্ত্রিক সরকারের মিথ্যাবাদী গোয়েবলসের ভূমিকা পালন করছেন ওবায়দুল কাদের সাহেব বা ওবায়দুল কাদের সাহেবরা, অর্থাৎ সরকারের মন্ত্রীরা।



মন্তব্য