kalerkantho


নন-এমপিও শিক্ষকদের লাগাতার কর্মসূচি শুরু

২৩ জুনের মধ্যে দাবি না মানলে অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



নন-এমপিও শিক্ষকদের লাগাতার কর্মসূচি শুরু

এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন প্রেস ক্লাবের বিপরীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদের পর গতকাল সোমবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষকরা টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন। আগামী ২৩ জুনের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত না এলে অনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় গত ১০ জুন থেকে বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। এমনকি ঈদের দিনও তাঁরা রাজপথে ছিলেন।

রোজার শেষ দিকে কর্মসূচি শুরু হওয়ায় খুব বেশি শিক্ষক জমায়েত হতে পারেননি। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও শিক্ষকদের প্রেস ক্লাবের সামনে বসতে দেননি। তার পরও তাঁরা তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। তবে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর গতকাল থেকেই কর্মসূচিতে শিক্ষকদের সংখ্যা

বাড়তে শুরু করে। গতকালও তাঁরা প্রেস ক্লাবের বিপরীত পাশেই অবস্থান নিয়েছিলেন। দু-এক দিনের মধ্যে আন্দোলন আরো জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম, ঈদের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো আশ্বাস মিলবে। আর শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়ি ফিরে যাবেন, কিন্তু তা হয়নি। এখন আমাদের আন্দোলন আরো জোরদার হবে। বিভিন্ন জেলা থেকেও শিক্ষক-কর্মচারীরা ঢাকামুখী হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘রমজান ও ঈদের জন্য আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি অর্ধদিবস পালিত হলেও সোমবার সকাল থেকে লাগাতর অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ। এর মধ্যে যদি এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত না আসে তাহলে আমরা অনশনসহ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’

এই শিক্ষক নেতা আরো বলেন, ‘আমরা ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছি। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীও আমাদের একাধিকবার এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়েছেন। আমরাও বাড়ি ফিরে গেছি। কিন্তু এখন আর তাঁর কথায় আশ্বস্ত হতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর মুখের ঘোষণা ছাড়া আমরা বাড়ি ফিরে যাব না।’

এদিকে গতকাল ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাজেটে সব বিষয় উল্লেখ থাকে না। আবার একসঙ্গে সব প্রতিষ্ঠান এমপিও করাও সম্ভব নয়। তবে এমপিও নীতিমালা ২০১৮ ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে প্রথমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে এমপিওভুক্তি করা হবে।’

রাজপথে শিক্ষকরা ঈদ করায় সচিব দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আবারও তাঁদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 



মন্তব্য