kalerkantho


মাদকবিরোধী অভিযান

‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার জেলায় নারীসহ নিহত ৪

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার জেলায় নারীসহ নিহত ৪

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে দেশের চার জেলায় নিহত হয়েছে নারীসহ চার মাদক ব্যবসায়ী। গত তিন দিনে বগুড়া, যশোর, শরীয়তপুর ও ময়মনসিংহে এসব ঘটনা ঘটেছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে জানা গেছে নিহতরা স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিল। তাদের মধ্যে তিনজন প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলগুলো থেকে পুলিশ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে।

বগুড়ায় শুক্রবার গভীর রাতে উদ্ধার হয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রেজাউল করিম ডিপজলের (৩৬) লাশ। বগুড়া শহরের মালগ্রাম ছিলিমপুর নতুন বাইপাস এলাকায় তার গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে ছিল। সেখানে দুই পক্ষের গুলিবিনিময়ে ডিপজলের মৃত্যু ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ওয়ান শ্যুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও ৪০০ পিস ইয়াবা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রাতে মালগ্রাম ছিলিমপুর নতুন বাইপাস এলাকায় দুই দল দুর্বৃত্তের মধ্যে গুলি বিনিময় হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে ডিপজলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিপজল বগুড়া শহরের মালগ্রাম উত্তরপাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। ২০১৭ সালের ৮ মার্চ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এক সদস্যকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

যশোর অভয়নগর উপজেলার  প্রেমবাগ এলাকায় নিহত হয়েছে শহিদুল ইসলাম (৩৪)। রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে  বন্দুকযুদ্ধ হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, দুই রাউন্ড গুলি ও ১২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।

অভয়নগর থানার ওসি শেখ গণি মিয়া বলেন, প্রেমবাগ এলাকায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে বলে জানতে পারি। পরে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে জানা যায় নিহত ব্যক্তি তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী শহিদুল। তার বাবার নাম নুর ইসলাম খাঁ। বাড়ি অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামে। শহিদুলের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহের শহরতলি গন্দ্রপা এলাকায় রবিবার সকালে মিলেছে রেহেনা আক্তার (৪০) নামে এক নারীর গুলিবিদ্ধ লাশ। মাদক ব্যবসায়ের বিরোধে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রেহেনার বাড়ি শহরের সানকিপাড়ায়। দুই বছর আগে পুলিশ তাকে মাদকসহ আটকের পর পুনর্বাসনের চেষ্টা করে। কিন্তু রেহেনা ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে যায়। তার মেয়ে আজিজাসহ পরিবারের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে। রবিবার সকালে গন্দ্রপা এলাকায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে সংবাদ দেয়। পরে অনেকেই আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে।

ডিবির ওসি আশিকুর রহমান জানান, শহরের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রেহেনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। পুলিশ তাকে অনেক দিন ধরেই খুঁজছিল।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে শুক্রবার ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে রুহুল আমীন বাঘা নামের মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশ জানিয়েছে, নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ভদ্রচাপ গ্রামে মাদক বেচাকেনা চলছে জেনে অভিযান শুরু হয়। গোসাইরহাট থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রুহুল আমীন বাঘাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি রাইফেল ও বেশ কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। বাঘার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 



মন্তব্য