kalerkantho


দুর্নীতির বিরুদ্ধেও হবে কঠোর অভিযান

আবদুল্লাহ আল মামুন   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দুর্নীতির বিরুদ্ধেও হবে কঠোর অভিযান

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, অনেকটা সে আদলেই এ অভিযান চালানো হবে। এর মাধ্যমে সরকার আর্থিক খাতের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগামহীন দুর্নীতির রশি টেনে ধরার চেষ্টা করবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, শিগগিরই এ অভিযান শুরু হবে। কোন পদ্ধতিতে অভিযান চালানো হবে, সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এখন।

সূত্র মতে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি প্রতিরোধের অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও এ সরকারের আমলে আর্থিক খাতের, বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলোতে দুর্নীতি এখন সবচেয়ে সমালোচিত বিষয়। এ অবস্থায় সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অভিযানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাখার ব্যাপারে মত রয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকেরও সহযোগিতা নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাবকে এ অভিযানে কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রে জানা যায়, আর্থিক খাত এবং বিভিন্ন সরকারি অফিস ছাড়াও বিমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর বাইরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং বিভিন্ন স্থলবন্দর এই অভিযানের আওতায় রাখার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অভিযান চলছে। এটি আরো শক্তিশালী করা হবে। তিনি জানান, দুর্নীতি দূর করার বিষয়টি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল। সেই অঙ্গীকারের ফলে দুদককে শক্তিশালী করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন হচ্ছে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা আইনের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হবে। 

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুুল মান্নান খানের বিরুদ্ধে এ সরকারের আমলেই দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধেও দুদক দুর্নীতির মামলা করে। কক্সবাজার-৪ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি দুদকের মামলায় কারাগারে ছিলেন।

বর্তমানে শেরপুরের এমপি আতিউর রহমান আতিক এবং নরসিংদীর এমপি কামরুল আশরাফ খান পোটনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযান সম্পর্কে কালের কণ্ঠকে বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেখানে রাঘব বোয়ালরা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রাণ যাচ্ছে চুনোপুঁটিদের। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তাই দুর্নীতি দমনের নামে একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা রাজনৈতিক দমনে পরিণত হয় কি না, সেই বিষয়ে আশঙ্কা থেকে যায়।

 



মন্তব্য