kalerkantho


ঈদে তৃণমূলের রাজনীতি জমজমাট

বেশির ভাগ নেতা গ্রামমুখী বিএনপির নজর কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বেশির ভাগ নেতা গ্রামমুখী বিএনপির নজর কারাগারে

ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ নেতা ঈদে গ্রামে যাচ্ছেন। তাঁরা ঈদ করবেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়। আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা ও নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যাওয়াই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্য ঢাকাতেই ঈদ করবেন। ঈদ উপলক্ষে গণভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। ঈদের দিন সকাল ৯টায় এ শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় ঢাকায় দলটির নেতারা তেমন কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন না। তবে ঢাকার বাইরে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দলটির সর্বস্তরের নেতা ও সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সক্রিয় থাকবেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ : সরকারি দল আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতাদের মধ্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ঝালকাঠিতে, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ভোলায়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীতে, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী অসুস্থ থাকায় ঢাকায় ঈদ করবেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক টাঙ্গাইলে ঈদ উদ্‌যাপন করবেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি নিজ এলাকা চাঁদপুরে ঈদ করবেন। আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ঈদ করবেন তাঁর নিজ এলাকা ফরিদপুরে। সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জয়পুরহাটে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদ্‌যাপন করবেন। শরীয়তপুরে নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে ঈদ করবেন আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম। সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ঈদ করবেন নিজ এলাকা বন্দর নগরী চট্টগ্রামে।

নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজের ছবিসংবলিত পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে ফেলেছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা। বর্তমান সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীরা এলাকামুখো হওয়ায় এবার ঈদে জমজমাট হবে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি।

বিএনপি : ঈদে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকলেও বিএনপি নেতাদের মধ্যে বিরাজ করছে ‘বিষণ্নতা’। অনেকে আবার ‘আতঙ্ক’ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। দলের নেতারা এবারের ঈদ কিভাবে উদ্‌যাপন করবেন জানতে চাইলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। তাঁদের মতে, বিএনপির আবেগ-অনুভূতির জায়গা হচ্ছে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া। তাঁকে কারাগারে রেখে ঈদে আনন্দ হবে না।

প্রতি বছর ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কূটনীতিকসহ দলীয় নেতাকর্মী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন খালেদা জিয়া। এবার সেটা হচ্ছে না। তবে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবার ঈদের নামাজের পরপরই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে দলটির নেতাকর্মীরা। এরপর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সিনিয়র নেতারা পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবেন।

ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করেছেন বিএনপি মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। ঈদের দিন সকালে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জেল গেটে যাবেন।

ঈদের দিন খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজন কারাবিধি অনুযায়ী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। তাঁরা সকালেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে যাবেন বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। লন্ডনেই সপরিবারে ঈদ করবেন তিনি। প্রতি বছরই সেখানে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এবার সে অনুষ্ঠান হবে কি না তা নিশ্চিত নয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান ঢাকায় ঈদ করবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী, স্থায়ী কমিটির আরেক সিনিয়র সদস্য তরিকুল ইসলাম নিজ এলাকা যশোরে ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঈদের দিন সকালে তাঁর নির্বাচনী এলাকা কেরানীগঞ্জে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী থাকবেন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে কারাগারে ঈদ করতে হচ্ছে। যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ঢাকায়, মজিবুর রহমান সরোয়ার বরিশালে, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঢাকাতেই ঈদ করবেন। খায়রুল কবীর খোকন নরসিংদী ও হারুন-অর রশিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঈদ করবেন।

সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহে, শামা ওবায়েদ ফরিদপুরে, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরে, বিলকিস জাহান শিরিন বরিশালে, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন সিলেটে ঈদ করবেন।

জাতীয় পার্টি : সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঈদে এবার ঢাকায় থাকবেন। গুলশান আজাদ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে তিনি তাঁর বনানী অফিসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ঢাকায় ঈদ করবেন। দলটির আরেক কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও ঢাকায় ঈদ করবেন। ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে তাঁরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ করবেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রহুল আমিন হাওলাদার জানান, তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালী-১ আসনের মানুষের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করবেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ বাবলু ঈদ করবেন চট্টগ্রামে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়। প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ঈদ করবেন কিশোরগঞ্জে। সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা ঈদ করবেন নির্বাচনী এলাকা রংপুরে।

অন্যান্য : ১৪ দলের শরিক জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ঈদ করবেন ঢাকায়। সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারও ঢাকায় ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। তবে ঈদের পর তাঁদের এলাকায় যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ঈদের দিন নিজ নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন। সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা তাঁর নির্বাচনী এলাকা রাজশাহীতে ঈদ করবেন। ঢাকায় ঈদ করবেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তাঁর দলের মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানও ঈদ করবেন ঢাকায়।



মন্তব্য