kalerkantho


ট্রাম্প-কিম বৈঠক নিয়ে নানা প্রশ্ন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাম্প-কিম বৈঠক নিয়ে নানা প্রশ্ন

ছবিঃ ইন্টারনেট

সিঙ্গাপুরে ডোনাল্ড ট্রাম্প-কিম জং উন যে দীপ্তি ছড়িয়েছেন, তাতে শান্তির প্রত্যাশা বোধগম্য। অথচ মাত্র ছয় মাস আগেও বাস্তবতা ছিল ভয়ের। কারণ ওই সময় ট্রাম্পের উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য এবং কিমের পরমাণু পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া ভয়ংকর যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সেই বাস্তবতায় এই শীর্ষ বৈঠকই একটি তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার মধ্যে এই স্বপ্নের বৈঠক শেষ হয়েছে প্রশ্নের পাহাড় তৈরি করে। এই বৈঠকে প্রকৃতপক্ষে কী অর্জিত হয়েছে, কে বেশি জয়ী হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে কী ঘটতে যাচ্ছে—এ রকম নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রশংসাযোগ্য মুহূর্তটা কি ট্রাম্পকে জয় এনে দিয়েছে? :  ট্রাম্প ও কিম যা চেয়েছিলেন, বহুমুখী ফটো-অপসের (প্রচারকাজে ব্যবহার করার জন্য রাজনীতিবিদদের ছবি তোলার সুযোগ) মধ্য দিয়ে তাঁরা সেটাই অর্জন করতে পেরেছেন। এই সুযোগ দুজনের রাজনৈতিক লিগ্যাসিকে শক্তপোক্ত করার কাজে সহায়ক হবে। বৈশিষ্ট্যগত কারণেই ট্রাম্প তাঁর প্রতিপক্ষ কিমের প্রচেষ্টা নিয়ে নানা প্রশংসাসূচক উক্তি করেছেন। এখন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে হোয়াইট হাউসও এই বৈঠক কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পকে সাহসী শান্তি স্থাপক হিসেবে উপস্থাপন করবে।

কিম জয়ী হয়েছেন বলা যায় কি? : বৈঠককে ঘিরে কিমই ছিলেন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে তাঁর বংশগত শাসনব্যবস্থার একটি নিশ্চয়তা বা স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন কিম। যেখানে তিনি একজন ‘খবুই মেধাবী লোক হিসেবে’ সবার সামনে হাজির হয়েছেন। তাঁর প্রতি দুই দিনের পাদপ্রদীপের আলোক তাঁকে ওই অঞ্চলের চতুর শাসকের ইমেজ এনে দিয়েছে। যা উপভোগ করেছেন উত্তর কোরিয়ার এই শাসক। শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠুর একনায়ক সেলিব্রিটির মর্যাদাই পেলেন। আর পিয়ংইয়ংয়ের সরকারি গণমাধ্যমও এই সাক্ষাতের ছবি ব্যবহার করে কিমের ইমেজের উন্নতিতে কাজে লাগাতে পারবে।

ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষে কী পেলেন এবং কী দিলেন? : বৈঠকের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প যে কাণ্ডটি করলেন তা হলো তিনি কিমের প্রতি তাত্ক্ষণিক একটি ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে কোরিয়া উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে ট্রাম্পের অবস্থানকে সবার ওপরে স্থান দিয়েছে। যেমন বৈঠকের পর এক সাক্ষাৎকারে এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমার প্রতি আস্থা রাখছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমি প্রকৃতপক্ষেই তা মনে করি। আমি মনে করি, তিনিও আমাকে বিশ্বাস করেন এবং আমিও তাঁকে বিশ্বাস করি।’

শেষ পর্যন্ত এই বৈঠক যদি কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রসারিত করে যা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি বন্ধ করবে, তাতে ট্রাম্পকে রিচার্ড নিক্সন ও রোনাল্ড রিগ্যানের কাতারে নিয়ে যাবে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পও বিচক্ষণ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবির্ভূত হবেন এবং তা তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার এনে দিতে পারে। কিন্তু সম্মেলনের পর এই সম্ভাবনা অনেক দূরে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিএনএনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ম্যাক্স বুট বলেন, ‘মনে হচ্ছে এ  জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনেক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর বিনিময়ে যা পাবেন তা খুবই সামান্য।

বৈঠকে প্রকৃতপক্ষে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? : বৈঠকের পর দেখা গেছে, দুই পক্ষই নিজেদের স্ববিরোধিতা কমিয়ে এনেছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এটা তাদের আত্মবিশ্লেষণমূলক। পিয়ংইয়ং নিশ্চিতভাবেই পরমাণু অস্ত্র থেকে দূরে চলে আসবে। কিন্তু উত্তর কোরিয়া তাদের প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়াকে নিরাপত্তা দিয়ে আসা আমেরিকার পরমাণু অস্ত্রের প্রত্যাহারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ব্যাপারে কী ঘটবে এই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে, যা সিউলের জন্য বড় এক উদ্বেগের কারণ। এ ছাড়া বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার অব্যাহত মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা না হওয়ায়ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই বৈঠকের পর কী ঘটবে? কারণ উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি দুই পক্ষের যৌথ ঘোষণায়। উল্টো ট্রাম্প বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মার্কিন সামরিক মহড়া স্থগিত ঘোষণা করেছেন। এমনকি ট্রাম্প এই মহড়াকে উসকানিমূলক বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে অসন্তুষ্ট করেছে। সূত্র : সিএনএন।



মন্তব্য