kalerkantho


শরীর ঠাণ্ডা সতেজ করে দই-চিঁড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মে, ২০১৮ ০০:০০



শরীর ঠাণ্ডা সতেজ করে দই-চিঁড়া

দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল রমজান মাসের তিন দিন। পবিত্র রমজানের চতুর্থ দিন আজ সোমবার। রোজায় বরাবরই দেশের মুসলিম সম্প্রদায় বেশ ঘটা করে ইফতারের আয়োজন করে থাকে। নিত্য অনুষঙ্গ হিসেবে এই আয়োজনে থাকে খেজুর, পিঁয়াজু, বেগুনি, হালিম, জিলাপি, মুড়ি ও ছোলা। একটু ব্যতিক্রমী হলে থাকে সমুচা, ফিশ কাবাব, মাংসের কিমা ও মসলা দিয়ে তৈরি কাবাবের সঙ্গে পরোটা, মিষ্টি আর ফল।

সারা দিন রোজা শেষে ইফতার পর্বে খালি পেটে ভাজা-পোড়া খেতে ভালোও লাগে। বাস্তবতা হলো, এসব খাদ্যে জিহ্বার রসনা তৃপ্ত হলেও শরীরের জন্য তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। বেশি তেল ও মসলাদার খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে ইফতারে অনেকেই চান এমন কোনো খাবার, যা শরীরকে ঠাণ্ডা করে, সতেজ করে তোলে। এমন একটি খাবার হলো দই-চিঁড়া। সঙ্গে পাকা কলা। এই খাবারটি পুরোপুরি দেশীয়, মোটামুটি সহজলভ্যও। আর দই দুগ্ধজাত খাবার। তাই শরীরের জন্য বলদায়কও। এ কারণে দই-চিঁড়াকে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের দেশে ইফতারে দই-চিঁড়ার প্রচলন রয়েছে। এটি শরীর ঠাণ্ডা করে। একই সঙ্গে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। হজম সহজ হয়, পেটে গ্যাস হয় না।’ পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, চিঁড়ার শর্করা শরীর ঠাণ্ডা রাখে এবং শক্তি সরবরাহ করে। এ ক্ষেত্রে মিষ্টি দইয়ের চেয়ে টক দই বেশি ভালো।

ইফতারির এই আইটেম চাইলে সহজেই বাসায় তৈরি করে নেওয়া যায়। ছোট-বড় অনেক রেস্টুরেন্টেও দই-চিঁড়া বিক্রি হয়। দামেও তুলনামূলক সস্তা। তবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইফতারির ক্রেতারা বরাবরের মতোই ভাজা-পোড়া আইটেম বেশি পছন্দ করেন। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ছে। দই-চিঁড়ার মতো ইফতারির ক্রেতাও দিন দিন বাড়ছে।

দই-চিঁড়ার সঙ্গে কলা যোগ করে খাওয়ার একটা প্রচলন আছে। এতে খাবারে নতুন মাত্রা যোগ হয়। অনেকে দই-চিঁড়ার পাশাপাশি ফালুদাও রাখেন ইফতার আয়োজনে। পুরান ঢাকার বিউটিতে অনেকেই আসেন ফালুদা কিনতে। এ ছাড়া রাজধানীর অনেক রেস্টুরেন্টেই রমজানে ফালুদা বিক্রি বেড়ে যায়।

 



মন্তব্য