kalerkantho


কিউবায় বিমান বিধ্বস্ত, ১০৭ আরোহী নিহত

দুই দিনের জাতীয় শোক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



কিউবায় বিমান বিধ্বস্ত, ১০৭ আরোহী নিহত

কিউবার হাভানা বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল-দিয়াজ কানেল। কিউবার বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। শুক্রবার তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

কিউবার রাজধানী হাভানায় শুক্রবার বিধ্বস্ত বিমানটির ১১০ আরোহীর মাত্র তিন নারীকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিরা সবাই মারা গেছে। কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দেশটিতে দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর ৬টা থেকে আজ রবিবার মধ্য রাত পর্যন্ত শোক পালন করা হবে। কমিউনিস্ট পার্টি নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো বলেছেন, দেশব্যাপী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল বলেছেন, প্রায় ৪০ বছরের পুরনো বোয়িং ৭৩৭ বিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার হাভানার হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সকালে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানবন্দর ও সান্তিয়াগো দে লাস ভেগাস শহরের মাঝামাঝি এলাকায় একটি মাঠের মধ্যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এটি পূর্বাঞ্চলীয় হোলগুইন শহরে যাচ্ছিল। অতুলনীয় বেশ কয়েকটি সমুদ্রসৈকতের জন্য প্রাদেশিক রাজধানী ওলগিন পর্যটকদের কাছে বেশ প্রিয়। মেক্সিকোর একটি কম্পানির মাধ্যমে

কিউবার জাতীয় বিমান সংস্থা কিউবানা দে এভিয়াসিওন বিমানটি ভাড়ায় পরিচালনা করছিল। বিমানে ছয় ক্রুসহ ১১০ জন আরোহী ছিল। যাত্রীদের বেশির ভাগই ছিল কিউবান। তবে দুই আর্জেন্টাইনসহ পাঁচজন বিদেশি যাত্রীও ছিল।

বিবিসির খবরে বলা হয়, বিধ্বস্ত হওয়ার সময়ই উড়োজাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিমানবন্দরের কাছেই কালো ধোঁয়া পাকিয়ে উঠতে দেখা যায় টুইটারে আসা ছবিতে। রয়টার্স বলছে, দুর্ঘটনাস্থলের আগুন নিভিয়ে ফেলার পর উদ্ধারকর্মীরা নিহতদের লাশ শনাক্তে কাজ শুরু করেছেন। কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

বিমান বিধ্বস্তের পরপরই হাভানার হোসে মার্তি বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন; তখন বিপুলসংখ্যক পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রাখে।

দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র গ্রানমা জানায়, হার্নিয়া অপারেশনের পর সুস্থ হওয়ার পথে থাকা কাস্ত্রো দুর্ঘটনার পর করণীয় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। গত মাসেই দশককালের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী দিয়াজ-কানেলের হাতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার হস্তান্তর করেছিলেন রাউল।

দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিনজনই নারী বলে জানিয়েছেন হাভানার ক্যালিক্সটো গার্সিয়া হাসপাতালের পরিচালক কার্লোস আলবার্তো মার্টিনেজ।

২৬ বছরের পুরনো বোয়িং ৭৩৭-৪০০ বিমানটি মেক্সিকোর একটি ছোট কম্পানি গ্লোবাল এয়ারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছিল কিউবানা। মেক্সিকো বলেছে, ঘটনা তদন্তে সহায়তার জন্য তারা দুজন সিভিল এভিয়েশন বিশেষজ্ঞকে কিউবায় পাঠিয়েছে। বিমানটির ছয় ক্রু ছিলেন মেক্সিকান।

মেক্সিকোর যানবাহনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ১৯৭৯ সালে তৈরি বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি গত নভেম্বরে পুরোপুরি সফলভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একটি দুর্ভাগ্যজনক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। মৃতের সংখ্যাটি খুব বড়, যা মোটেও আশাপ্রদ খবর নয়।’

এর আগে ২০১০ সালে কিউবায় এরো ক্যারিবিয়ানের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৬৮ আরোহীর সবাই নিহত হয়। গত বছরও একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আট আরোহীর সবাই নিহত হয়েছিল। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৯ সালে; সেবার হাভানার কাছে সোভিয়েত নির্মিত একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হলে ১২৬ আরোহীর সবাই নিহত হয়। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



মন্তব্য