kalerkantho


ভোটার হিসেবে সবাই সমান : ওবায়দুল কাদের

সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে ভারত : শ্রিংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৯ মে, ২০১৮ ০০:০০



সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে ভারত : শ্রিংলা

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গতকাল মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

হিন্দু সম্প্রদায়কে নিজেদের সংখ্যালঘু না ভেবে ভোটার হিসেবে সমান মনে করে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা নিজেদের মাইনরিটি ভাবেন কেন? আপনাদের ভোটের মূল্য কম আর মুসলমানদের ভোটের মূল্য বেশি—এ কথা কি সংবিধানে আছে? ভোটের অধিকার সবার সমান।’

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরো উঁচুতে উঠবে। সুখে-দুঃখে ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশেই থাকবে। বাংলাদেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করছে উল্লেখ করে এটি অব্যাহত থাকবে বলে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত দাস দীপু। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল।

সম্মেলনের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে আজ কাউন্সিল অধিবেশন হবে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের।

গতকাল সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিজেদের দুর্বল ভাববেন না। মাথা উঁচু করে, শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ান। নিজেকে যখন মাইনরিটি ভাববেন, তখন নিজেকে দুর্বল করে দেবেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ভুল করে পাকিস্তানের দোসরদের আমাদের বিকল্প ভাববেন না। কেউ হুমকি দিলে শক্ত হয়ে দাঁড়াবেন। বাড়ির সামনে এসে দুই-তিনজন হুমকি দিলে পালিয়ে চলে গেলে হবে না।’

আওয়ামী লীগেরও কিছু ভুল-ত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কিন্তু আপনাদের বেটার বন্ধু এ দেশে আমাদের চেয়ে আর কেউ না। শেখ হাসিনার চেয়ে আর কি কেউ আপনাদের আপনজন আছে? ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি নিয়ে বসে থাকলে বড় ভুল হবে।’

২০০১ সালের নির্বাচনের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২০০১ ও ২০০৩ সালের নির্যাতনের কথা ভুলে গেছেন? আপনাদের জন্য আমাদের চেয়ে বেটার কেউ না। পাকিস্তানের বন্ধুরা আপনাদের বন্ধু হতে পারে না। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর সারা দেশে যে সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন শুরু হয়েছিল, তা ছিল ওই সরকারের কেন্দ্রীয় পলিসির অংশ।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের আমলে যে ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে, সেটা শেখ হাসিনা সরকারের পলিসির অংশ না। আওয়ামী লীগেও দুর্বৃত্ত আছে। কেউ কোনো অন্যায় করলে আমি তাদের দুর্বৃত্ত বলি। জমি, বাড়ি, সম্পত্তি দখল—এসব ব্যাপারে আমাদের সরকারের নীতি জিরো টলারেন্স।’

বিএনপি আগামী নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন ও বার কাউন্সিল নির্বাচনে হারের পর আগামী নির্বাচনে জিতবে, বিএনপি এ আশা হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে নানা ছলছুতায় নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নির্বাচনে আসবে কি আসবে না। এ জন্য আওয়ামী লীগকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপির হেরে যাওয়ার ট্রেন্ড শুরু হয়ে গেছে। পর্যবেক্ষকরাও বলছেন খুলনায় দুই-তিনটি অনিয়ম ছাড়া প্রতিটাতেই নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হয়েছে। শুধু বিএনপি এই নির্বাচন মেনে নিতে পারেনি। এক লাখ ১০ হাজার ভোট পেয়েছে। নির্বাচন ফেয়ার না হলে বিএনপি এত ভোট পেত?’ নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তাদের ভোট কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে জামিনের পরও সরকার তাঁকে মুক্তি দিচ্ছে না—বিএনপির এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘মামলা কয়টা, জামিন কয়টার হবে? আর এটা আমাদের বিষয় নয়। আওয়ামী লীগ তো মামলাও দেয়নি, জামিনও দেয়নি। এই মামলা করেছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অবিরাম মিথ্যাচার করছে, মনে হচ্ছে এই মামলা যেন আওয়ামী লীগ দিয়েছে। মামলার দণ্ড দিয়েছেন আদালত, তাঁকে মুক্তিও দিতে পারেন আদালত, জামিনও দিতে পারেন আদালত। আওয়ামী লীগ সরকার জামিন দিতে পারে না।’

দুর্বৃত্তপনায় সহযোগীদের নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি : সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পড়ে শোনান। এতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-জবরদখল, নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা জাতীয় লজ্জা উল্লেখ করে বলা হয়, যেসব সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা প্রয়োজনে কোনো কাজে আসেনি বা হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, নির্যাতন-প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বরং এ ধরনের অপকর্ম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহাযোগিতা করেছেন তাঁদের যেন আগামী নির্বাচনে কোনো দল থেকে মনোনয়ন না দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বাহাত্তরের সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ রূপ ফিরিয়ে আনা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট বিলুপ্ত করে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন, দেবোত্তর সম্পত্তি সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় বাজেটে হিন্দুদের সংখ্যানুপাতিক হিসসা নিশ্চিত করা, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, নির্বাচন পূর্বাপর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা, পদক্ষেপ নেওয়াসহ নানা দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের ২০ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে ১৪ বিঘা অপদখলে আছে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

 

 



মন্তব্য