kalerkantho


সরকারি আমানতের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সরকারি আমানতের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকে

স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তহবিল এবং সরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব তহবিলের মোট অর্থের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও (এনবিএফআই) রাখতে পারবে কিংবা উভয় প্রতিষ্ঠানেও রাখতে পারবে।

এ নির্দেশনা গত ৩১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে বলে গণ্য হবে। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়।

গত ৩০ মার্চ এক বৈঠকে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ।

এই সুযোগ দেওয়া হলে বেসরকারি ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করতে পারবে বলে জানান ব্যাংক মালিকরা। ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট কাটাতে ওই অনুরোধ জানিয়েছিলেন ব্যাংক মালিকরা। এরপর গত ২ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে পাঠানো হয়। ওই নির্দেশনার সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার এই সার্কুলার জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি কিছু ব্যাংক থেকে আমানত তোলার হিড়িক পড়ায় গোটা ব্যাংক খাতে নগদ টাকার সংকট তৈরি হয়। এর মধ্যে আবার গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধির লাগাম টানতে ব্যাংকগুলোর আমানতের বিপরীতে ঋণ বিতরণের হার (এডিআর) কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়। এতে অনেক ব্যাংক প্রদত্ত ঋণের সঙ্গে আমানতের অনুপাত সমন্বয় করতে বেশি সুদে আমানত সংগ্রহে নামে। আবার কোনো কোনো ব্যাংক পর্যাপ্ত আমানত না পেয়ে তারল্য সংকটে ভোগে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংকঋণের সুদের হারও বেড়ে যেতে থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে গত ৩০ মার্চ বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে ব্যাংক মালিকরা অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ব্যাংক মালিকরা ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট কাটাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান। অর্থমন্ত্রীও ওই আবেদনে সাড়া দেন।

বিএবির সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার ওই সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি আমানতের সুদহার কম। স্বল্প সুদের এই আমানত পেলে ব্যাংকগুলো সহজেই তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। ব্যাংকঋণের সুদের হারও সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসবে।

এর পরের দিন ১ এপ্রিল সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যাংকগুলোর আমানতের নগদ জমার বাধ্যবাধকতা (সিআরআর) ৬.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫.৫ শতাংশ করারও একটি নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলেও ব্যাংকগুলোর হাতে বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকার মতো তারল্য ফেরত আসে।

তবে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার নির্দেশনা থাকলেও এখনই এই আমানত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর হাতে আসবে না বলে জানান ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খান। গত রবিবার মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনকালে আনিস এ খান বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে রাখার ঘোষণা থাকলেও এটা কার্যকর হতে সময় লাগবে। দেশে আমানতের কোনো ঘাটতি নেই। বেশির ভাগ টাকা রয়েছে সরকারি ব্যাংকে। ছয় মাস বা এক-দুই বছরের বেশি সময়ের আমানতগুলো আছে সরকারি ব্যাংকগুলোতে। এসব আমানতের মেয়াদ পূর্তি না হলে টাকাগুলো তারা সেখান থেকে তুলবে না। মেয়াদ পূর্তির পরে গ্রাহকরা সিদ্ধান্ত নেবে কোন প্রতিষ্ঠান কোন ব্যাংকে টাকা রাখবে।’ এ জন্য আমানতের সুদের হার কমে আসতে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগবে বলে জানান আনিস এ খান।



মন্তব্য