kalerkantho


আ. লীগের ঘাঁটিতে অন্যদের নিয়ম রক্ষার নির্বাচন

প্রসূন মণ্ডল, গোপালগঞ্জ   

১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগের ঘাঁটিতে অন্যদের নিয়ম রক্ষার নির্বাচন

গোপালগঞ্জ-২ আসনটি সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আগামী নির্বাচন ঘিরে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো এখানে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে তেমন আলোচনা নেই। কারণ ৩৮ বছর ধরে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। কার্যত এ আসনে অন্যান্য দল নিয়ম রক্ষার নির্বাচন করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের প্রার্থী—এমনটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দলের আরো কেউ মনোনয়ন চাইতে পারেন, এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি।

এ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষক পার্টির সভাপতি সাহিদুর রহমান টেপা নির্বাচন করবেন বলে আলোচনা রয়েছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ মাসুদুর রহমান, জাসদের (আম্বিয়া) সহীদুল হকের নামও শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ : এ আসনে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিগত সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে রয়েছে তাঁর গভীর যোগাযোগ ও সম্পর্ক। তিনি খোঁজখবর নেন গরিব-দুঃখী সাধারণ মানুষের, যোগ দেন নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে।

তা ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজের উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখায় জনগণ শেখ সেলিমের প্রতি খুশি। এমনকি তাঁর অবর্তমানে তাঁরই ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম প্রতি মাসে দু-একবার গোপালগঞ্জে আসেন। যোগ দেন বিভিন্ন খেলাধুলা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। এই যুবনেতার সঙ্গে রয়েছে গোপালগঞ্জের হাজারো যুব নেতাকর্মী।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা রনী হোসেন কালু বলেন, গোপালগঞ্জের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এই ঘাঁটিতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের হানা দেওয়া বা ভাঙন ধরানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জ-২ আসনে আমাদের জননেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভাই নির্বাচন করে আসছেন। এবারও তিনি করবেন। আমরা এরই মধ্যে তাঁর নির্বাচনী কাজ শুরু করেছি।’

গোপালগঞ্জ শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নিতীশ রায় বলেন, ‘বরাবরই গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে থাকে। আগামী নির্বাচনেও তা-ই হবে। গোপালগঞ্জ-২ আসনে আমাদের জননেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নেতৃত্বে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।’ বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারায় গোপালগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে এখানকার সংসদ সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন বলে তিনি জানান। নিতীশ রায় বলেন, ‘সে উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান, তাতে আগামীতেও গোপালগঞ্জের সব কয়টি আসনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয় সুনিশ্চিত। আমরা যারা গোপালগঞ্জের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তারা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জন্য এরই মধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছি। যাতে অন্য প্রার্থীরা তাঁদের জামানত হারান।’

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এম বি সাঈফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অন্যতম ভোটব্যাংক বঙ্গবন্ধুর এই গোপালগঞ্জ জেলা। এখানে বরাবরই দলের একক অবস্থান। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর অন্য কোনো দলের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় না। বিপক্ষের প্রার্থীরা বরাবরাই বিপুল ভোটে পরাজিত হন।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনেও এ আসনে শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন জানিয়ে সাঈফ বলেন, ‘আমরা এবারও শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভাইকে অতীতের মতো বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করব।’

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান বলেন, ‘গোপালগঞ্জ জেলার মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। জাতীয় নির্বাচনে অন্য কোনো মার্কা ভোটাররা খোঁজে না। উন্নয়নের মার্কা নৌকাকে ভোট দিয়েই গোপালগঞ্জবাসী যেকোনো মূল্যে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে হ্যাটট্রিক করতে চায়।’ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, সহযোগী সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে যাঁকে মনোনয়ন দেবে আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁকে বিজয়ী করতে কাজ করব।’

বিএনপি : এ আসনে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করতে চান বলে জানা গেছে। তিনি ব্যাবসায়িক কারণে ঢাকায় অবস্থান করেন। মাঝেমধ্যে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গোপালগঞ্জে আসেন। গোপালগঞ্জ এসে বিভিন্ন গ্রামে সভা করেন। খোঁজখবর নেন নেতাকর্মীদের। নির্বাচন নিয়ে এই নেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না। তবে বিএনপি যদি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয় এবং নির্বাচনী মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা হয় তাহলে বিএনপি গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই একটা গ্রহণযোগ্য ভোট পাবে। আমি গোপালগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচন করব।’

জাসদ : গোপালগঞ্জ জেলা জাসদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই আমরা প্রার্থী ঠিক করে রেখেছি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’



মন্তব্য