kalerkantho


ঋণ জালিয়াতির চার মামলা

ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার ৬৮ বছর কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার ৬৮ বছর কারাদণ্ড

ঋণ জালিয়াতির চার মামলায় ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তাকে ৬৮ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর  বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রতিটি মামলায় আলাদাভাবে এই রায় দেন। এ ছাড়া অন্য দুটি মামলায় দুজনকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের মতিঝিল প্রিন্সিপাল শাখার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মো. হারুন, সাবেক সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম মোহাম্মদ উল্লাহ, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদা হোসেন, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কামরুল ইসলাম এবং সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান। তাঁরা সবাই পলাতক রয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের পর রায় কার্যকর হবে।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, চার মামলার প্রতিটির দুটি ধারায় আসামিদের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মামলার এক ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছর এবং আরেক ধারায় সাত বছর করে মোট ১৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চার মামলায় প্রতিটিতে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়ায় প্রত্যেকের সাজা হয়েছে ৬৮ বছর করে। তবে সব মামলায় একসঙ্গে গ্রেপ্তার দেখানো হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এই চার মামলার দায় থেকে ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ইমামুল হককে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামিদের চার কোটি দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ আদায়ের পর চার কোটি টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

অন্য দুটি পৃথক মামলার একটিতে ব্যাংকটির সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট তরিকুল ইসলাম ও গ্রাহক সালাউদ্দিনকে ১০ বছর করে এবং অন্যটিতে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই দুই আসামিও পলাতক। তাঁরা গ্রেপ্তার বা আদালতে আত্মসমর্পণের পর সাজা কার্যকর হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আসামিরা নিজে লাভবান হওয়ার জন্য পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া ঋণপত্রের মাধ্যমে চার কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেন। এ ঘটনায় ২০০৬ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। এর আগেও দুটি মামলায় আসামিদের সাজা হয়। আরো কয়েকটি মামলা বিচারাধীন।



মন্তব্য