kalerkantho


ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত

নির্ঝঞ্ঝাট নির্বাচন দেখতে চায় চীন

রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান নেই

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নির্ঝঞ্ঝাট নির্বাচন দেখতে চায় চীন

বাংলাদেশে আগামীতে একটি ‘নির্ঝঞ্ঝাট’ নির্বাচন দেখতে চায় চীন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে দেশটি নিবিড় দৃষ্টি রাখছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত চাং চুও গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এতে চীনের নিজস্ব কোনো স্বার্থ নেই। তাই চীন নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। চীন আশা করে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান করবে। তবে এ সংকটের আশু কোনো সমাধান নেই।

সংবাদ সম্মেলনে চীনা রাষ্ট্রদূত চীনা ভাষায় বক্তব্য দেন এবং বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন। সাংবাদিকদের ইংরেজিতে করা প্রশ্নগুলো চীনা ভাষায় এবং রাষ্ট্রদূতের চীনা ভাষায় বক্তৃতা ও উত্তরগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করে দেন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে চীনা ওই কর্মকর্তা ইংরেজিতে ‘স্মুথ’ নির্বাচন দেখার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

দোভাষীর মাধ্যমে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে নির্ঝঞ্ঝাট সাধারণ নির্বাচন দেখতে চাই। আর আমরা বাংলাদেশের সুসংহত উন্নয়ন আশা করি।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পছন্দকে চীন সম্মান জানায়। চীন আশা করে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতামূলক অংশীদারি সম্পর্ক নতুন মাত্রায় এগিয়ে যাবে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত চাং চুও বলেন, চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে প্রকৃত, উদ্দেশ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটের কারণে এ ইস্যু বেশ জটিল। দ্রুত এ সংকটের সমাধান নেই।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন শত্রু হলো দারিদ্র্য। দারিদ্র্য মোকাবেলায় আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, সামনে বর্ষাকাল। বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। চীন তাদের সহযোগিতা দিতে আগ্রহী।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত চাং চুও বলেন, এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিছু প্রকল্প সূচি অনুযায়ী এগোয়নি। সেগুলোর জটিল কিছু কারণ রয়েছে। দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চীনা দূতাবাস যোগাযোগ বাড়াবে।

সংবাদ সম্মেলনে চীনা দূতাবাসের উপমিশনপ্রধান চিও ওয়েসহ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সম্প্রতি চীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধিদলও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিল।

স্টক এক্সচেঞ্জ নিয়ে রাজনীতি চায় না চীন : এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর চীনা দূতাবাস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ‘স্ট্র্যাটেজিক’ বিনিয়োগকারী হিসেবে শেনচেন স্টক এক্সচেঞ্জের দরপত্র জমা দেওয়া প্রসঙ্গে জানিয়েছে, দরপত্রের ফলাফল অনুযায়ী অন্য প্রস্তাবগুলোর চেয়ে চীনা প্রস্তাব ভালো। চীন বিশ্বাস করে, এটি পুরোপুরি বাণিজ্যিক বিনিয়োগ প্রকল্প এবং এ নিয়ে রাজনীতি বা চীনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হবে না।

চীন আশা করে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ স্বচ্ছতা, পারস্পরিক স্বার্থ, উভয়ের জন্য লাভ এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে জবাবদিহির নীতি অনুসরণ করে সেরা অংশীদার নির্বাচন করবে।

বাংলাদেশে চীনা পর্যটক বাড়ানোর প্রত্যাশা : চীনা দূতাবাস জানায়, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়াতে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। বাংলাদেশিদের জন্য চীন নমনীয় ভিসা নীতি অনুসরণ করছে। গত বছর চীন বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার ভিসা দিয়েছে। এটি আগের বছরের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি।

দূতাবাস থেকে জানানো হয়, চীন সম্প্রতি কনস্যুলার বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ চীনা পর্যটকদের বাংলাদেশে পর্যটনের জন্য আসতে উৎসাহ দিচ্ছে।



মন্তব্য