kalerkantho


পঞ্চগড়ে শতবর্ষী গাছে করাত

২০ লাখ টাকার গাছ বিক্রি ৭৮ হাজারে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পঞ্চগড়ে শতবর্ষী গাছে করাত

পঞ্চগড় শহরের বাস টার্মিনাল থেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় পর্যন্ত আধা কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের শতবর্ষী গাছ মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বৃক্ষপালন শাখা। ইতিমধ্যে গাছ কাটাও শুরু হয়ে গেছে। দরপত্রের মাধ্যমে ২০টি গাছ বিক্রির কথা বলা হচ্ছে, যা ৭৭ হাজার ৯৩৫ টাকা দর দিয়ে কিনে নিয়েছেন একজন ঠিকাদার।

কিন্তু স্থানীয় লোকজন বলছে, এখানে মরা গাছ আছে দুই-তিনটি। অন্যগুলোকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে না। তারা দাবি করেছে, ২০টি গাছের দাম হবে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা। আর বাস্তবে এ সড়কে এমন গাছ আছে অন্তত ৩০টি।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের বৃক্ষপালন শাখার নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদ পলাশ সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাছ কাটার বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।

পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কটি জনপথ বিভাগের। পঞ্চগড় শহরের বাস টার্মিনাল থেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় এই সড়কেরই অংশ। 

জানা যায়, সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাজশাহী আঞ্চলিক বৃক্ষপালন শাখা গত ৫ মার্চ গাছ কাটার কার্যাদেশ দেয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহ ট্রেডার্স।

সরেজমিনে দেখা যায়, শতবর্ষী গাছগুলোতে কুঠার-করাত চলছে। গত রবিবার থেকেই ঠিকাদারের নিযুক্ত শ্রমিকরা গাছ কাটছে। এর মধ্যে ১০-১২টি গাছ কাটা হয়ে গেছে। এসব গাছের অধিকাংশই কাঁঠালগাছ।

স্থানীয় লোকজন বলছে, গাছগুলোর বয়স কম করে হলেও এক শ বছর। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান ঠিকাদারের হয়ে কাজ করছেন। স্থানীয় যারা গাছ কাটা নিয়ে কথা বলছে, তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন মান্নান। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দলবল নিয়ে তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

পঞ্চগড় জেলা সদরের ধাক্কামারা এলাকার মাহমুদ কহিনূর জানান, ‘আমরা ছোট থেকেই গাছগুলো দেখে আসছি। মরা গাছ কাটার নাম করে এখন শতবর্ষী গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে।’

গণসংহতি আন্দোলন, পঞ্চগড়ের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাজু জানান, ‘বিনা কারণে মরা গাছ কাটার নাম করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানির দামে গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছে। অবিলম্বে এই শতবর্ষী গাছ কাটা বন্ধ করা হোক।’

যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।

পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ‘এ বিষয়ে আমাদের কেবল অবহিত করা হয়েছে। এর বেশি আমরা কিছু জানি না।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফকির আব্দুর রউফ বলেন, ‘কোনো উন্নয়নমূলক কাজ না চললে ওই সড়কের গাছ কাটার কথা না। আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

 

 



মন্তব্য