kalerkantho


ব্রাজিলে বিশ্ব পানি সম্মেলন

বাংলাদেশ পানি সংকটে পড়তে পারে, সংরক্ষণে দৃষ্টি দিতে হবে

২১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ পানি সংকটে পড়তে পারে, সংরক্ষণে দৃষ্টি দিতে হবে

বাড়ছে মানুষ, এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা। আর এই অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন এবং নানা রকম বাণিজ্যিক ব্যবহারে পানিসম্পদ কমে যাচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বৃষ্টির পানি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন বিশ্বের পানি বিশেষজ্ঞরা। সোমবার বিশ্ব পানি সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে বৃষ্টির পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

জাপান ওয়াটার ফোরামের ব্যবস্থাপক সাই ইশিহারা এক সেমিনারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি নিয়ে আসেন। সেমিনারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট প্রকট হচ্ছে। কারণ উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি বাড়ছে। তাই বাংলাদেশকে প্রকৃতিনির্ভর পানি সংকট সমাধানের দিকেই যেতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে (ডিসেম্বর-এপ্রিল) ব্যবহারের জন্য নদীর পানি ধরে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে নদীতে রাবার ড্যাম ও ব্যারাজের মাধ্যমে পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে সেচকাজে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

সাই ইশিহারা সেমিনারে বাংলাদেশে বৃষ্টির পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশে দু-একটি জায়গায় বৃষ্টির পানি ধরে ব্যবহার করা হলেও এ নিয়ে সচেতনতা নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ আগামী দিনে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার মাধ্যমেই সুপেয় পানির সংকট সমাধান করতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিকে।

সেমিনার শেষে বাংলাদেশের দুটি সংবাদমাধ্যমকে সাই ইশিহারা বলেন, ‘আমি কয়েক বছর বাংলাদেশে পানি নিয়ে কাজ করেছি। উপকূলীয় এলাকা পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা ও বরিশালে সুপেয় পানির সংকট সমাধানের উপায় নিয়ে কাজ করেছি। এসব এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার এবং পরিশোধনের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে সংকটের সমাধান করতে হবে।’

একই সেমিনারে নেপালের পানি বিশেষজ্ঞ মহামায়া থাপা তাঁর উপস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ার পানি সংকট অংশে বাংলাদেশের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন নদী রয়েছে। প্রাকৃতিক কারণে এবং শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীর পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এসব নদীর পানির প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের নদীর পানি এভাবে কমে যেতে থাকলে দেশটিতে পানি সংকট দেখা দিতে পারে। এরই মধ্যে দেশটির অনেক নদী পানির অভাবে মরে গেছে। পানির রিচার্জ (পুনর্ভরণ) কমে যাচ্ছে। তাই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের নদীর পানি যেহেতু বঙ্গোপসাগরে চলে যায়, তাই জলাধারের মাধ্যমে নদীর পানি ব্যবহারে দেশটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় গত ১৮ মার্চ ছয় দিনব্যাপী অষ্টম বিশ্ব পানি সম্মেলন শুরু হয়েছে। বিশ্ব পানি কাউন্সিল আয়োজিত এই সম্মেলনে পানি সংকট ও সমাধান নিয়ে প্রতিদিন সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক, বিতর্ক, মেলা, নাটকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে। পরিবেশবাদীরা সম্মেলনস্থলের সামনে শিল্পায়নে পানির ব্যবহার ও  দূষণের প্রতিবাদ করছেন।



মন্তব্য