kalerkantho


অপহৃত ব্যবসায়ী সজল চৌধুরী ফিরেছেন

তবে মুখ খুলছেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০




অপহৃত ব্যবসায়ী সজল চৌধুরী ফিরেছেন

অপহরণের সাত দিন পর বাসায় ফিরেছেন ব্যবসায়ী সজল চৌধুরী (৪৭)। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফেরেন। গত ১১ মার্চ রাতে কয়েকজন লোক বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘জি’ ব্লকের একটি ছয়তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার বাসায় ঢুকে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। সজল চৌধুরী জাহাজভাঙা, তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত। ওই বাড়িতে মা দেলোয়ারা বেগম ও কিশোর ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকেন সজল।

গতকাল তাঁর বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, মা দেলোয়ারা বেগম সজল চৌধুরীকে ধরে কাঁদছেন। আর সজল চৌধুরী ফ্যালফ্যাল করে তাঁকিয়ে আছেন মায়ের দিকে। দেলোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, সজল চৌধুরীকে ধরে নেওয়ার সময় মারধর করতে করতে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে তাঁর মুখে কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর গাড়ি চলে যায়। অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে সজল চৌধুরী কোনো কথা বলতে রাজি হননি। শুধু তিনি জানান, তিনি ফিরে আসতে পারায় আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছেন। কারা কী কারণে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং কোথায় তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সজল চৌধুরীর মা দেলোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, অপহরণকারীরা গতকাল রবিবার ভোররাতে সজল চৌধুরীকে নোয়াখালীতে ফেলে যায়। সেখান থেকে সজল তাঁর মাকে ফোন করে মুক্তি পাওয়ার কথা জানান। অপহরণকারীরা সজলের পকেটে দুই হাজার টাকাও দিয়ে দেয়। তারপর সজল একটি গাড়ি ভাড়া করে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফেরেন।

দেলোয়ারা বেগম জানান, তাঁর স্বামী মিজানুর রহমান চৌধুরী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। ছেলেকে তিন মাসের গর্ভে রেখে স্বামী যুদ্ধে যান। আর ফিরে আসেননি। এরপর ছেলেকে নিয়ে লড়াই করে এ পর্যন্ত এসেছেন। ছেলের বউ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর তিনিই নাতিকে লালন-পালন করছেন।

দেলোয়ারা বেগম জানান, সজল ২০১৪ সালে এক স্কুলশিক্ষিকাকে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়। ছাড়াছাড়ির পর ওই নারী তিনটি মামলা করে। সব মামলায় সজল জামিনে আছেন। কিন্তু কিছুদিন আগে ওই নারী সজলকে ফোন করে হুমকি দেয়। ওই হুমকির পরই সজলকে মারধর করে তুলে নেওয়া হলো। তিনি আরো জানান, মেহেদী নামের একজনের সঙ্গে সজলের ব্যবসা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। মেহেদী সজলের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়েছে। এই টাকা চাওয়ার কারণে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এই অপহরণের জন্য দেলোয়ারা বেগম সজলের সাবেক স্ত্রী এবং ব্যবসায়ী অংশীদার মেহেদী নামের ওই ব্যক্তিকে সন্দেহ করছেন।

গতকাল গিয়ে দেখা গেছে, ভাটারা থানা পুলিশ বাড়িটির সামনে দায়িত্ব পালন করছে। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর শাহীন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যবসায়ী সজল ফিরে আসার পর আমরা তাঁর নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছি।’

সজলকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের ডিভিআর বক্সটিও খুলে নিয়ে যায় তারা।

 


মন্তব্য