kalerkantho


রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বিগ্ন আসিয়ান সদস্যরা

চাপের মুখে সু চি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বিগ্ন আসিয়ান সদস্যরা

দেরিতে হলেও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যরা। রীতি অনুযায়ী আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পারস্পরিক নাক গলানো ও হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকার কথা স্বীকার করেই গতকাল রবিবার তারা মিয়ানমারকে এ সংকটের ফলপ্রসূ সমাধান করতে বলেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সিডনিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান-অস্ট্রেলিয়া শীর্ষ সম্মেলনে গতকাল রবিবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে চাপে পড়েন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে আসিয়ান উদ্বিগ্ন। এদিকে চাপের মুখে অং সান সু চি রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিজেই কথা বলেছেন এবং মানবিক তৎপরতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া ও আসিয়ানের সাহায্য-সহযোগিতা চেয়েছেন।

দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে গতকাল রবিবার সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল বলেন, ‘আমরা রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় আলোচনা করেছি। অং সান সু চি নিজেই এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেছেন।’

তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা ‘গঠনমূলক’ ছিল বলেও জানান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

ওই সংবাদ সম্মেলনে আসিয়ানের বর্তমান সভাপতি ও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুং বলেন, ‘মিয়ানমারের প্রতিবেশীরা রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আসিয়ানে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও জোরজবরদস্তির সুযোগ নেই। তবে এ সংকট (রোহিঙ্গা সংকট) আসিয়ানের সব দেশের জন্যই উদ্বেগের।’

অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর—দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীই সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানকে সমর্থন করার কথা বলেছেন এবং বাস্তুচ্যুতদের মানবিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার তার রাখাইন রাজ্যে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো এর তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানালেও আসিয়ান কার্যত নীরবতা পালন করেছে। গতকাল রবিবারই আসিয়ান দেশগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়েছে এবং এর সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ দিয়েছে।

সিডনিতে আসিয়ান-অস্ট্রেলিয়া শীর্ষ সম্মেলনের আগে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুর সফরের সময় ওই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। সে সময় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সিঙ্গাপুরের সমর্থন চান।

আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো ও ঐকমত্যের নীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতন-নিপীড়ন-নিধনযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে আসিয়ান সদস্য মালয়েশিয়া আসিয়ানের নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানালে জোটে উত্তেজনা দেখা দেয়।

এবার সিডনিতে আসিয়ান-অস্ট্রেলিয়া শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন গত শনিবারই রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, হতাশাগ্রস্ত

রোহিঙ্গাদের ইসলামিক স্টেটের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।

এদিকে মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী আরসাকে দায়ী করলেও তা পুরোপুরি সমর্থন করার ইঙ্গিত দেয়নি সিঙ্গাপুর। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুং গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাখাইন রাজ্যে জঙ্গি-সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আছে কি না সে বিষয়ে সিঙ্গাপুরের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে তিনি বলেন, সম্ভাবনার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণেই নজর রাখতে হয়।

সিডনিতে সম্মেলন শেষ হলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির জন্য অস্বস্তি শেষ হচ্ছে না। সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সোমবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে। সেখানেও অন্য ইস্যুগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু ওঠার কথা রয়েছে।

এরপর আগামীকাল মঙ্গলবার সিডনির লোয়ি ইনস্টিটিউটে সু চির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সু চি গত শনিবার অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর থেকে জনসমক্ষে কিছু বলেননি। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার তাঁর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।

 



মন্তব্য