kalerkantho


রুবায়েতকে ঢাকা আনা হলো, চিকিৎসা বোর্ড গঠন

বিমান ও পাইলটদের তথ্য নিয়ে নেপাল যাচ্ছে বাংলাদেশের টিম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রুবায়েতকে ঢাকা আনা হলো, চিকিৎসা বোর্ড গঠন

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আহত রুবায়েতকে গতকাল ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আহত শেখ রাশেদ রুবায়েতকে গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকায় এনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রুবায়েতের অবস্থা অন্যদের চেয়ে ভালো। বার্ন ইউনিটে গতকাল পর্যন্ত পাঁচজনকে ভর্তি করা হলো। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ ১৩ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেনকে এর প্রধান করা হয়েছে। এ ছাড়া রোগীদের স্বার্থে বিনা অনুমতিতে ওয়ার্ডে কাউকে প্রবেশ না করতে বিনীত অনুরোধ করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

বিমান সূত্র জানায়, রুবায়েতকে গতকাল বিকেল ৩টা ৭ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (বিজি-০৭২) করে কাঠমাণ্ডু থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। সেখান থেকে তাঁকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল ৪টায় হাসপাতালে পৌঁছায় তাঁকে বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সটি।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আহত যাঁরা এ পর্যন্ত এসেছেন তাঁদের চেয়ে রুবায়েতের অবস্থা ভালো। প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসে তেমন সমস্যা নেই। তবে বুকের একটা হাড় ভেঙেছে। ডান পায়ে ইনজুরি রয়েছে। এ ছাড়া তেমন কোনো বার্ন নেই। আশা করছি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।’ রুবায়েতের সহকর্মী ব্যাংক এশিয়ার পল্টন শাখার এক্সিকিউটিভ মাইনুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, রুবায়েত বিমানের পাখার পাশে ছিলেন বলে বেশি দগ্ধ হননি। নেপালের চিকিৎসকরাও সব রিপোর্ট দেখে ছাড়পত্র দিয়েছেন। মেডিক্যাল বোর্ড সদস্যদের একজন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নেপালে চিকিৎসাধীন পাঁচজনের মধ্য দুজনের অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’।”

গতকাল শনিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি থাকা চারজনের মানসিক অবস্থা দেখতে যান মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও ঢামেকের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকরা। তাঁরা জানান, রোগীদের সার্বিক মানসিক অবস্থা ততটা খারাপ নয়।

প্রোফাইল নিয়ে নেপাল যাচ্ছে টিম : অন্য দিকে নেপালে আজ থেকে বাংলাদেশ, নেপাল, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস ও উড়োজাহাজটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত তদন্ত কমিটির আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এ কমিটিকে সহযোগিতা করতে আজ রবিবার কমিটির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের একটি টিম যাচ্ছে নেপালে। টিমের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজের কাগজপত্র, পাইলট আবিদ সুলতান ও কো পাইলট পৃথলা রশীদের বিস্তারিত তথ্য (প্রোফাইল) নিয়ে যাবেন। প্রোফাইলগুলো সমন্বিত তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করবেন তারা। গতকাল দুপুরে বেবিচকের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, বিধ্বস্ত ড্যাশ-৮ কিউ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ার প্রতিনিধিদল, নেপাল সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশের বিশেষায়িত সংস্থা এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি) এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকে তদন্ত শুরু করবে।

জানা যায়, আজ সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে ‘এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ’ প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ নেপালের উদ্দেশে রওনা দেবেন। পাইলটের লগবুক, পাইলট লাইসেন্স, কো-পাইলটের ফ্লাইংয়ের অনুমতির বিষয়সহ বিমানের ক্রয়, মেরামত সংক্রান্ত অন্য সব তথ্য চেয়েছে নেপাল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন দিন আগে নেপাল তাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। শুক্রবার আমাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। আজ (গতকাল) হয়েছে। বৈঠকে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।’ তিনি আরো বলেন, ছয় সদস্যর একটি টিম গঠন করে নেপালে পাঠানো হয়েছে। রহমতুল্লাহ আগে চলে যাবেন। পরে কমিটির অন্য সদস্যরা ভাগ ভাগ হয়ে নেপাল যাবেন। তাঁরা তদন্তদলকে সব ধরনের সহায়তা করবেন। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের কাগজপত্র দিয়ে সহায়তা করেছে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।



মন্তব্য