kalerkantho


দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত শি চিনপিং

ডেপুটি ‘সবচেয়ে কাছের’ কিসান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত শি চিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার পার্লামেন্টে এক ভোটাভুটির মাধ্যমে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়। চিনপিং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেয়েছেন ‘সবচেয়ে কাছের মানুষ’ ওয়াং কিসানকে।

চলতি মাসের শুরুতে ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের’ (এনপিসি) বার্ষিক অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন করে ‘সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার বিধান’ তুলে নেওয়া হয়। এর ফলে দেশটিতে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকার চিনপিংয়ে আজীবন ক্ষমতায় থাকার পথ খুলে যায়। সেই হিসেবে গতকালের ভোটে চিনপিং যে নিরঙ্কুশ সমর্থন পাবেন, সেটি অনুমেয়ই ছিল। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট কে হবেন—সবার চোখ ছিল সেদিকেই। অবশ্য এ পদে চিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ওয়াং কিসানের নাম আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল।

চীনের পার্লামেন্টে মোট ভোটার দুই হাজার ৯৭০ জন। তাঁদের সবাই দ্বিতীয় মেয়াদে চিনপিংয়ের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে ভোট দেন। তবে ভাইস ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কিসান একটি ভোট কম পেয়েছেন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, কিসানও অনির্দিষ্টকালের জন্য চিনপিংয়ের সহযোগী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারবেন। চিনপিং এবং কিসান—দুজনই গতকাল শপথ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে পার্টির সাত সদস্যের শক্তিশালী স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন কিসান। মূলত বয়সের কারণেই পদ ছাড়েন ৬৯ বছর বয়সী এই নেতা। কিন্তু কয়েক দিন আগে আবার তাঁকে ‘পার্লামেন্ট ডেলিগেট’ মনোনীত করা হয়। আর তখন থেকেই শোনা যাচ্ছিল, তাঁকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও দেখা যেতে পারে।

কিসান সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন দুর্নীতিবিরোধী শক্তিশালী সংস্থা ‘সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইন্সপেকশন’-এর প্রধান হিসেবে। ১৯৮০ সালে ‘পলিসি রিসার্চার’ হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেওয়া কিসান দায়িত্ব পালন করেছেন পেইচিংয়ের মেয়র হিসেবেও। এ ছাড়া ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সময় তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সংলাপের প্রধান সমন্বয়ক। কিংস কলেজ লন্ডনের ‘লাউ চায় ইনস্টিটিউটের’ কেরি ব্রাউন বলেন, ‘কিসানের নিয়োগ এটাই প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক পরামর্শক হিসেবে তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

অন্যদিকে ৬৪ বছর বয়সী চিনপিংকে এখন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও জেদংয়ের পর সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে ধরা হয়। তাঁর মতাদর্শকে ‘শি চিনপিংয়ের সমাজতান্ত্রিক চিন্তা’ হিসেবে এরই মধ্যে পার্টির গঠনতন্ত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি।



মন্তব্য