kalerkantho


ছুটির দিনে বাড়িতে হানা দিচ্ছে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ছুটির দিনে বাড়িতে হানা দিচ্ছে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারীরা

রাজধানীতে কৌশল পাল্টানো মোটরসাইকেল চোর-ছিনতাইকারীরা বাসাবাড়িতে হানা দেওয়ার ক্ষেত্রে ছুটির দিনগুলোকে বেছে নিচ্ছে। মূলত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত সময়ে বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে তারা।

সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার এক দিনেই দুটি ঘটনা ঘটেছে। ভোরে মুগদার মানিকনগরের একটি বাসায় এক নিরাপত্তাকর্মী ও এক গৃহকর্মীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। আর দুপুরে খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগের উত্তর গোড়ান-আদর্শনগরের একটি বাড়ির নিচ থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

গত এক মাসে এভাবে বাড়িতে হানা দিয়ে মোটরসাইকেল চুরি-ছিনতাইয়ের দুই ডজনের বেশি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। হামলায় এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছে।

মানিকনগরের ঘটনার ব্যাপারে ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন ছিনতাইকারী গতকাল ভোর ৫টার দিকে ৮২/৮৩ নম্বর নুর ফাতেমা ভবনে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মী মিজান (৫৫) এবং একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী আব্দুল গণিকে (৩০) কুপিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে।

রাসেল নামের এক ফ্ল্যাট মালিক জানান, ছিনতাইকারীরা নিরাপত্তাকর্মী মিজানকে চাপাতি দিয়ে এবং গৃহকর্মী আব্দুল গণিকে রড দিয়ে আঘাত করে মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।

আর উত্তর গোড়ান-আদর্শনগরের ঘটনার ব্যাপারে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ ভোরে উত্তর গোড়ানের ৬৬ নম্বরে যে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়েছিল ছিনতাইকারীরা তার কাছেই ৩৫০ নম্বর বাড়ি থেকে গতকাল দুপুরে আরেকটি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী নূরে আলম কালের কণ্ঠকে জানান, ৩৫০ নম্বর বাড়ির নিচে তাঁর ডিসকভার মোটরসাইকেলটি রাখা ছিল। দুপুরে নামাজের সময় লোকজন ছিল না। এ সুযোগে চোর হানা দেয়। পাশের গলির মুখে সিসি ক্যামেরা আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, লাল গেঞ্জি পরা এক যুবককে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেছে তারা।  মোটরসাইকেল হারানো নূরে আলম জানান, চুরির ঘটনায় পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিয়ে তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।’

এর আগে গত ৮ মার্চ গভীর রাতে মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে মোটরসাইকেল চুরিতে বাধা দিতে গিয়ে খুন হন নিরাপত্তাকর্মী ওমর ফারুক। চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি ১০ মার্চ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

৮ মার্চ রাতেই মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের ‘ই’ ব্লকের নোভা রহমান হাউজিং সোসাইটির একটি বাসার নিরাপত্তাকর্মী অপু কুমার সরকার ও আনিসুর রহমানকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

মিরপুরের ঘটনার বিষয়ে দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি সিন্ডিকেট এ কাজ করেছে মনে হলেও এর সঙ্গে কারা জড়িত তা বের করা যায়নি।’ তিনি জানান, হত্যার আলামত বলেই টোলারবাগের চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি ছিনতাইকারীরা ফেলে গেছে বলে ধারণা পুলিশের।

এ ছাড়া গত ১০ মার্চ ভোরে হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী মুরাদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালানো হয়। তখন ছিনতাইকারী শিবলিকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় স্থানীয় লোকজন।

এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ‘শিবলি চিহ্নিত চোর। এর আগেও তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিন্ডিকেটের সদস্য হলেও সে একা অপরাধ করে।’ 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, গত এক মাসে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত অন্তত ১২ জন সেখানে চিকিৎসা নিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’


মন্তব্য