kalerkantho


রহমতুল্লাহ্‌র বিকল্প নেই দলে বিএনপির ভরসা কাইয়ুম

তৈমুর ফারুক তুষার ও শফিক সাফি    

১৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রহমতুল্লাহ্‌র বিকল্প নেই দলে বিএনপির ভরসা কাইয়ুম

রাজধানীর ভাটারা, বাড্ডা ও রামপুরা থানার এলাকাগুলো নিয়ে জাতীয় সংসদের ঢাকা-১১ নির্বাচনী আসনে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই কোনো দলেই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একজন করে প্রার্থীকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠ গোছাচ্ছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বর্তমান সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ্‌ বিকল্প কেউ নেই। আর বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এম এ কাইয়ুম।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এলাকাটি ঢাকা-৫ আসনের অংশ ছিল। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে বাড্ডা-রামপুরা-ভাটারার অংশ নিয়ে ঢাকা-১০ আসন গঠিত হয়। পরের নির্বাচনে পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে আসনটি হয় ঢাকা-১১। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাড্ডার ২১ নম্বর ওয়ার্ড, রামপুরার ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং বাড্ডা, বেরাইদ, সাঁতারকুল ও ভাটারা ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত।

পঞ্চম থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এ আসনে একবার আওয়ামী লীগ আরেকবার বিএনপি জয়লাভ করেছে। নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে রহমতুল্লাহ্র জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দুই মেয়াদে আসনটি দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহারা খাতুনকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মেজর (অব.) কামরুল ইসলামকে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের এ কে এম রহমতুল্লাহ্। ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে কামরুল ইসলাম জয়লাভ করেন এ কে এম রহমতুল্লাহেক হারিয়ে। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে আসনটি হয় ঢাকা-১০। সেবার বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমকে হারিয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের রহমতুল্লাহ্‌। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এলাকাটি ঢাকা-১১ আসনে পরিণত হয়। ওই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় রহমতুল্লাহ্ বিনা বাধায় নির্বাচিত হন।

তিনবারের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহেকই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে বলে মনে করে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি রহমতুল্লাহ্র বিকল্প কোনো প্রার্থী এ এলাকায় নেই। রহমতুল্লাহ্ ঢাকার অনুন্নত এই এলাকার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছেন।

ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ্ ভাই যত দিন বেঁচে আছেন, এ আসনে অন্য কেউ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে আমার মনে হয় না। উনি এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রিয়ভাজন। নেত্রীর (শেখ হাসিনা) আস্থাভাজন। ফলে যত দিন রহমতুল্লাহ্ ভাই চাইবেন আমার মনে হয় দলের উচ্চপর্যায় তাঁকেই মনোনয়ন দেবে। উনার বিকল্প কেউ এই এলাকায় নেই।’

রামপুরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাদল বলেন, ‘এমপি সাহেব বড় মনের মানুষ। নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখেন। বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। এলাকায় রাস্তাঘাট ও স্কুল-কলেজের উন্নয়ন করেছেন। ফলে নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গেই আছে। আগামী নির্বাচনে তিনিই আমাদের একক প্রার্থী।’

বেরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আনসার মিন্টু বলেন, ‘ঢাকা-১১ আসনে রহমতুল্লাহ্ সাহেব আগামী নির্বাচনে আবারও দলের প্রার্থী হবেন। আমরা সবাই উনার জন্যই কাজ করছি। উনার সময়ে এলাকায় স্কুল-কলেজ ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উনার গ্রহণযোগ্যতা বেশি।’

সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ্ দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করে, আগামী নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এম এ কাইয়ুমই হবেন বিএনপির প্রার্থী। তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। কোনো কারণে কাইয়ুম নির্বাচন করতে না পারলে বিএনপির পক্ষে যোগ্য প্রার্থী দেওয়া কঠিন হবে। সে ক্ষেত্রে কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগম প্রার্থী হতে পারেন।

আশির দশকের শুরুর দিকে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি কাইয়ুমের। পরে বিএনপির ওয়ার্ড, থানা পেরিয়ে তিনি এখন মহানগর কমিটির সভাপতি। দলের কেন্দ্রীয় কমিটিরও ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার (পরে কাউন্সিলর)। সেই সুবাদে নিজ এলাকায় বেশ মজবুত অবস্থান গড়েন তিনি। তবে মামলার বেড়াজালে এখন তিনি দেশের বাইরে। যাত্রাবাড়ীতে আলোচিত গাড়ি পোড়ানোর মামলাসহ অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে তাঁর নামে। তবে সবচেয়ে বেশি শঙ্কায় রয়েছেন ২০১৫ সালের তাবেল্লা হত্যা মামলা নিয়ে। এ মামলার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন কাইয়ুম। তবে তাঁর পক্ষে কৌশলে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে অনুসারী নেতাকর্মীরা। দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতা জানান, যদি কাইয়ুম নির্বাচন করতে না পারেন সে ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তাঁর স্ত্রী শামীম আরা বেগম নির্বাচন করবেন। সেটিও সম্ভব না হলে বিকল্প কাউকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

এম এ কাইয়ুম মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এবং বিএনপি অংশগ্রহণ করলেই আমার প্রার্থী হওয়ার প্রশ্ন আসবে।’ তিনি বলেন, ‘বাড্ডায় আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাড্ডা-রামপুরায় তৃণমূল থেকে রাজনীতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি কাজ করেছি। সব সময় আমার নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও আমাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আমার বিশ্বাস, মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলে অবশ্যই আমাকে এলাকার আরো বেশি করে কাজ করার সুযোগ দেবে।’

মামলা প্রসঙ্গে কাইয়ুম বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় হয়রানির কারণে দল এবং ভোটারদের সহানুভূতি আমার দিকেই থাকবে। মিথ্যা অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা আমি আইনিভাবে মোকাবেলা করছি। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশে ফিরব।’

 


মন্তব্য