kalerkantho


পাটপণ্যের মেলা

ফিরে আসছে সুদিন

মোশতাক আহমদ   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ফিরে আসছে সুদিন

পাটপণ্যের মেলায় দর্শনার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চেয়ার, শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ, বেডসাইড লকার, হাসপাতাল ও অডিটরিয়ামে ব্যবহার উপযোগী নানা ধরনের আসবাব থরে থরে সাজানো। আরো রয়েছে ব্যাগ, বাস্কেট, ব্রাশ, ক্রিসমাস ডেকর, কয়েন ব্যাংক, কুশন কাভার, ফার্নিচার, হোম অ্যাকসেসরিজের নানা পণ্য। প্রতিটি পণ্যই আকর্ষণীয়। গুণগত মানও অনেক উন্নত। দেখলেই কিনতে ইচ্ছা করে। তাৎপর্যের বিষয় হলো, এ সবই তৈরি হয়েছে পাট দিয়ে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের বিশাল হলরুমে উপস্থাপন করা হয়েছে এসব পাটপণ্য। জাতীয় পাট দিবসকে উপলক্ষ করে গতকাল মঙ্গলবার এখানে শুরু হয়েছে পাটপণ্যের মেলা। ‘সোনালি আঁশের সোনার দেশ, পাটপণ্যের বাংলাদেশ’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এদিন পালিত হয়েছে জাতীয় পাট দিবস-২০১৮। এরই অংশ হিসেবে তিন দিনব্যাপী এই অনন্য আয়োজন। আর পাটপণ্যের এই মেলায় বাহারি একেকটি সৃষ্টিতে যেন ফুটে উঠেছে বাংলার প্রকৃতির রূপ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল উদ্বোধন শেষে পাটপণ্য মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয় পাটপণ্যের প্রদর্শনী। এতে অংশগ্রহণ করেছে দেশের পাটপণ্য উৎপাদনকারী দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান। মেলায় শোভা পাচ্ছে সম্পূর্ণ পাট দিয়ে তৈরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিও।

স্টল মালিকরা বলেন, মেলায় বাজারমূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রি করছেন তাঁরা। মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান জুট-ফাইবার গ্লাস ইন্ডাস্ট্রি পাট দিয়ে তৈরি করেছে চেয়ার, ক্লাসরুম বেঞ্চ, বেডসাইড লকার, হাসপাতাল ও অডিটরিয়ামে ব্যবহার উপযোগী নানা ধরনের আসবাব। ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক তওহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এসব পণ্য তৈরি করি, যাতে প্লাস্টিক বা এজাতীয় পরিবেশবিনাশী পণ্য থেকে মানুষকে পাটমুখী করা যায়।’

পাটপণ্যের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান মেলান্দহ জাগরণ মহিলা সমবায় সমিতি মেলায় এনেছে নিজেদের তৈরি পাটের ব্যাগ, ক্যাপ ও গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত বেশ কিছু বাহারি পণ্য। সমিতির সভাপতি শবনম মোস্তারী এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘স্বাস্থ্যহানি হয়, এমন কোনো রাসায়নিকের ব্যবহার ছাড়াই আমরা দেশে উৎপাদিত পাট দিয়ে তৈরি বেশ কিছু পণ্য নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছি। ভালো সাড়াও পাচ্ছি।’

মেলার সবচেয়ে চমক হলো, পাট থেকে উৎপাদিত চা। পাটের পাতা থেকে এ ধরনের চা উদ্ভাবন করেছে ইন্টারট্রোপ অ্যাগ্রিকালচারাল প্রডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিস। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই চা স্বাস্থ্যসম্মত এবং ডায়াবেটিক রোগীদের উপযোগী করে তৈরি। কোর দ্য জুট ওয়ার্কাস নামের একটি কম্পানি মেলায় অংশ নিয়েছে পাটের তৈরি ব্যাগ, বাস্কেট, ব্রুম এন্ড ব্রাশ, ক্রিসমাস ডেকর, কয়েন ব্যাংক, কুশন কাভার, ফার্নিচার, হোম অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড ডেকোরসহ পাটজাত নানা পণ্য নিয়ে। প্রদর্শনের পাশাপাশি এগুলো বিক্রিও হচ্ছে দেদার।

মেলা আয়োজক কমিটির পরিচালক সৈকত সুমন বলেন, ‘এবারের মেলায় পাটের তৈরি পণ্য অনেক সাড়া জাগিয়েছে। পাট নিয়ে গবেষণার পথ আরো সহজ হলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সব ধরনের পণ্যই আমরা পাট থেকে উৎপাদন করতে পারি। এরই প্রকৃষ্ট প্রমাণ আজকের এই মেলা।  আমরা এই প্রদর্শনীতে দুই শতাধিক পাটপণ্য প্রদর্শন করতে পারছি। অথচ ২০০৮ সালের আগেও এ ধরনের পণ্যসংখ্যা ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০টি।

পাটজাত পণ্যের উদ্যোক্তারা এ পর্যন্ত ২৩৫ ধরনের পাটপণ্য উৎপাদন করেছে। এবারের মেলায় পাটজাত পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রির ব্যবস্থাও রয়েছে। মেলার বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে প্রতিদিন থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশবরেণ্য শিল্পীরা তাতে অংশ নিচ্ছেন। মেলা চলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



মন্তব্য