kalerkantho


পতাকা উত্তোলন দিবসে বক্তারা

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ

ছবি : কালের কণ্ঠ

৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে হবে। অংশগ্রহণমূলক এবং সব দলের জন্য যদি নির্বাচনে সমান সুযোগ রাখা না হয় তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। সে পরিস্থিতি আওয়ামী লীগ সামাল দিতে পারবে না। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, দেশ খাদের কিনারায় চলে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শুধু দলের পরিবর্তন নয়, একই সঙ্গে নীতিরও পরিবর্তন আনতে হবে। দেশের মালিক সাধারণ জনগণ। সেই প্রকৃত মালিকদের কাছে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। আর এ জন্য অসাম্প্রদায়িক বাম গণতান্ত্রিক শক্তি ছাড়াও সব ধরনের গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আব্দুর রব। দিনটি উদ্‌যাপনের জন্য ‘স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস জাতীয় কমিটি’ গঠন করা হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

প্রবীণ রাজনীতিক গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা অনেক দিন থেকে ঐক্য নিয়ে আলোচনা করছি। এর ফলও হয়েছে। ২০০৭ সালে জরুরি সরকার এসেছে। সে সময় আমরা দেড় কোটি ভুয়া ভোটার উচ্চ আদালতের মাধ্যমে শনাক্ত করেছি। সে কারণে ২০০৮ সালে একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক হলো জনগণ। এটি মুখের কথা নয়। এটি সংবিধানের কথা। জনগণের ঐক্য হলে দেশি-বিদেশি শক্তি কেউ তাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, একটির পর একটি ব্যাংক লুট হয়ে যাচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরি হয়ে যাচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস থামানো যাচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী হাজার কোটি টাকাকে বলছেন সামান্য টাকা। তাহলে খালেদা জিয়াকে কেন দুই কোটি টাকার জন্য শাস্তি পেতে হবে? এ টাকা তো বাদাম খাওয়ার টাকাও নয় ব্যাংক লুটের টাকার হিসাবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো আর কোনো নির্বাচন এ দেশে হবে না। যদি সরকার একাই নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায় তাহলে পরিণাম খুবই ভয়াবহ হবে। এর দায়িত্ব আওয়ামী লীগকে নিতে হবে।

নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গতবার নির্বাচনের নামে আওয়ামী লীগ জনগণের সঙ্গে ফোর টুয়েন্টিপনা করেছে। বিএনপিকে সরকার নির্বাচনে আসতে দেয়নি, শুধু বিএনপি নয়, সরকারের শরিক ছাড়া অন্য কোনো দলই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আগামী নির্বাচন ওভাবে হতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখানে যাঁরা আছেন তাঁরা বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ। তাঁরা জাতির বিবেক। দেশের এ রকম পরিস্থিতিতে তাঁরা দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলে কী শান্তি আসবে? দেশে কি ১০ হাজার মানুষ নিহত হবে না? আগামী নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে, আর এর সমাধান এখানে উপস্থিত ড. কামাল, বি চৌধুরীর মতো নেতারা দিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার মেজর (অব.) মান্নান, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের হুমায়ুন কবির প্রমুখ।



মন্তব্য