kalerkantho


উৎসব

শাবিপ্রবিতে ‘ইইই ফেস্টিভাল’

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



শাবিপ্রবিতে ‘ইইই ফেস্টিভাল’

শাবিতে কেক কেটে ইইই ফেস্টিভাল উদ্বোধন করেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই)’ বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘ইইই ফেস্টিভাল-২০১৮’ শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ড. এম ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে ফেস্টিভালের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জনপ্রিয় লেখক ও ইইই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

উদ্বোধনের পরে ‘স্পার্ক’ নামক ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ফেস্টিভালে মিডিয়া পার্টনার দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ।

উদ্বোধনের সময় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ছাত্রদের মাত্র শতকরা পাঁচ ভাগ শিক্ষা দিতে পারি। বাকি শতকরা ৯৫ ভাগ বাইরে থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের বাংলাদেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেখানে তারা অংশগ্রহণ করবে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কের উন্নয়ন হবে। শুধু নিজের গণ্ডির মধ্যে আটকে না থেকে তারা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে। এই ফেস্টিভালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু শিখতে পারবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইআইসিটির পরিচালক অধ্যাপক ড. শহীদুর রহমান, ইইই বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুজ্জামান খান প্রিন্স, হৃতেশ্বর তালুকদারসহ বিভাগের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

আয়োজকরা জানায়, ফেস্টিভালে মোট ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে। প্রথম দিনে ছিল সাইবার গেম, ইলেকট্রনিকস অলিম্পিয়াড, ফিল্ম প্রদর্শন ও রোবিকস কিউব প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার অটোনোমাস রোবোটিক চ্যালেঞ্জ, রোবো কমবেট এবং দুপুর ১টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘বিগ ব্যাঙ’ তত্ত্বের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাইছি : ড. জাফর ইকবাল

বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, ‘যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগ দেয় ওই ছাত্রদের আমি শিক্ষক, সে জন্য লজ্জিত, জাতির কাছে ক্ষমা চাইছি। নবীন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং দেওয়ার অপরাধ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেই শাস্তিটা গ্রহণ করে ওদের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা না করে তারা আন্দোলন করা শুরু করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি ছাত্রদের কষ্ট দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা শিক্ষকদের সাথেও বেয়াদবি করেছে। এতে আমি খুবই লজ্জা পাচ্ছি যে এই ঘটনা আমাদের ক্যাম্পাসে ঘটেছে।’ গতকাল শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছয় নবীন শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় একই বিভাগের দুজনকে আজীবন বহিষ্কারসহ আরো তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। এ ছাড়া আরো ১৪ জনকে বিভিন্ন মাত্রায় জরিমানা করা হয়। আজীবন বহিষ্কারাদেশের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে তাৎক্ষণিকভাবে গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছিল ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য