kalerkantho


বইমেলা মানে বইয়ের বাজার নয়

আফজাল হোসেন

তৌফিক মারুফ   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বইমেলা মানে বইয়ের বাজার নয়

‘মেলায় যতটা কেনাবেচার ব্যবস্থা হয়েছে, ততটা শ্রদ্ধার জায়গা আছে বলে আমি মনে করি না। মনে রাখতে হবে, বইমেলা মানে বইয়ের বাজার নয়! এই মেলায় আরো বেশি করে একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশ রাখা উচিত ছিল। লেখক-পাঠক সংযোগের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। লেখকরা শুধু বইয়ে স্বাক্ষর দেবেন আর বই বিক্রি হবে—সেটাই সব নয়। এখানে লেখক-পাঠকের আড্ডা, বই নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থাটা কেন হলো না তা আমার বোধগম্য নয়।’

নাটকের মানুষ, অভিনেতা আফজাল হোসেন রবিবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এসে নিজের এমন প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন কালের কণ্ঠ’র কাছে। তিনি বলেন, ‘এই মেলায় আমি অনেক দিন ধরেই আসছি। তবে মনের মতো পরিবেশ পাই না। খুব যে একটা সার্থক মেলা হচ্ছে সেটা আমি বলতে পারি না। বিদেশে এমন বইমেলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় লেখক-পাঠকের আলাপচারিতার বিষয়টি। পাঠকরা লেখককে নানা প্রশ্ন করেন। আর লেখকরা উত্তর দেন, ব্যাখা করেন, পাঠকদের মতামত জানতে পারেন। আয়োজকরা চাইলেই মেলার ভেতরে আরো অনেক গুছিয়ে কিছু আয়োজন রাখতে পারতেন। আমি কিন্তু শুধু ইট বিছিয়ে রাস্তা বানিয়ে দেওয়া কিংবা সুন্দর সুন্দর স্টল সাজানোর কথা বলছি না।’

এই নাট্যব্যক্তিত্ব ও লেখক বলেন, ‘এই মেলাকে বাজার না বানিয়ে বরং যত মানুষের সমাগম হচ্ছে তাদের ভালোলাগা ও আনন্দের ওপর জোর দেওয়া দরকার ছিল। মানুষ এখন হয়তো বেড়ানোর তেমন জায়গা পায় না। সেদিক থেকে এমন একটি আয়োজন পেয়ে এখানে ভিড় করে। সে হিসাবে অনেকের কাছেই এটি ভালো। কিন্তু আমি মনে করি না, বইমেলা মানে শুধু বই কেনাবেচার জায়গা। এই জায়গাটি হওয়া উচিত ছিল—যাঁদের বই পড়ার আগ্রহ নেই তাঁরাও যেন এখানে এসে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বোধ করেন, প্রেরণা পান। মেলাটিকে সংস্কৃতির একটি মেলবন্ধন হিসেবে দেখতে পারেন। কিন্তু আমি সেটা এখানে দেখতে পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘এই মেলায় যদি একজন পাঠক হিসেবে আমি লেখক কোন বইটি কেন লিখেছেন সেটা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারতাম, তবে সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম।’

আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের যৌবনকালে আমরা শুনতাম, একেকটি প্রকাশনার একেকটি সম্পাদনা বিভাগ বা গ্রুপ রয়েছে। তারা নিজেদের দক্ষতা ও মেধা খাটিয়ে নতুন লেখক তৈরি করত। কিন্তু এখন তেমনটা দেখছি না। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’


মন্তব্য