kalerkantho


ভারতে মুসলমানদের ডায়াপার বর্জনের ডাক, বিক্ষোভ অগ্নিসংযোগ

মুহাম্মদ (সা.)-এর অবমাননার অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভারতে মুসলমানদের ডায়াপার বর্জনের ডাক, বিক্ষোভ অগ্নিসংযোগ

প্যাম্পারস কম্পানির ডায়াপারে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম ‘লিখে’ রাখার অভিযোগে ভারতের হায়দরাবাদে বিক্ষোভ করেছে মুসলমানরা। তারা হায়দরাবাদের রাস্তায় নেমে প্যাম্পারস ডায়াপারের প্যাকেট আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং পণ্যটি বর্জনের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে ‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ এনে এই ডায়াপারটি বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তদের শাস্তি দিতে পুলিশের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ডায়াপারটির সামনের অংশে বিড়ালের মুখের আকৃতির যে কার্টুন ছাপা রয়েছে, তাতে বিড়ালটির গোঁফ, নাক, মুখ ও বাম চোখ এমনভাবে আঁকা হয়েছে যাতে আরবি বা উর্দুতে ‘মুহাম্মদ’ শব্দটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে প্যাম্পারস ডায়াপারের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা ধর্মকে আঘাত করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই এবং এই নকশাটি (বিড়ালের মুখ) একটি নির্দোষ এনিমেশন।

হায়দরাবাদের মুসলমানদের কাছে ডায়াপারে নবীর (সা.) নাম ‘লিখে’ রাখার খবরটি জানার পর তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ মুসলমানরা রাস্তায় নেমে প্যাম্পারসের প্যাকেটে আগুন জ্বালিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। মুসলমানরা এটাকে ইসলাম অবমাননা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পরে রাস্তায় প্যাম্পারসের প্যাকেটে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ভিডিওটি কয়েক লাখবার দেখা হয়।

এই অবস্থায় মুসলমানদের একটি সংগঠন ‘দারসগাহ জিহাদ-ও-সাহাদাত’ ডায়াপারটির ব্যাপারে হায়দরাবাদের দেবিপুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তাতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কম্পানি প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বলের মালিকানাধীন প্যাম্পারস মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। চিঠিতে পণ্যটি বাজার থেকে দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাতে আরো বলা হয়, ডায়াপারটিতে এমনভাবে বিড়ালের কার্টুন আঁকা হয়েছে, তাতে যদি বিড়ালটিকে খালি চোখেও দেখা যায় তাতেও ছাপা অক্ষরে আরবি বা উর্দুতে মুহাম্মদের (সা.) নামটি স্পষ্ট বোঝা যায়। নবী মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের পবিত্র ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর প্রতি কোনো অসম্মান সহ্য করা হবে না। চিঠিতে দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এ ব্যাপারে প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বলের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্যাম্পরস সম্পর্কে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছাড়ানো সম্পর্কে আমরা সচেতন রয়েছি। প্যাম্পারস বেবি ড্রাই প্যান্টের (ডায়াপার) ডিজাইনে একটি বিড়ালের এনিমেশন উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বিড়ালের মুখ, গোঁফ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেভাবে সাধারণ বিড়ালের মুখ আঁকা হয়। এই কার্টুন বিশেষ করে শিশুদের জন্য সারা বিশ্বেই চালু রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই কার্টুনের ব্যবহারের পেছনে যে চিন্তা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং আমরা কখনোই কোনো ব্যক্তি, ধর্ম বা সাংস্কৃতিক বিশ্বাসকে আঘাত করি না।’

তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া : খবরটি জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে ভারতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্যাম্পারস ডায়াপার বর্জনের আহ্বান জানায়। তবে কিছুসংখ্যক মুসলিম রয়েছে, যারা এই কার্টুনটিকে নির্দোষ হিসেবে দেখার জন্য মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে নাসের আলম খান নামের এক ভারতীয় মুসলমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘প্রত্যেক মুসলমান ভাই ও বোনের প্রতি আমার অনুরোধ, দয়া করে আপনারা এই পণ্যটি বর্জন করুন। আমাদের শক্তি ও নবীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এটাই একমাত্র উপায়।’ সেখানে ইমতিয়াজ নেইকু নামের একজন বলেছেন, ‘প্লিজ, নিজেকে বড় কর। এটা দুই চোখ, গোঁফসহ কেবল একটি বিড়াল।’

আজম শরিফ নামের একজন লিখেছেন, ‘এটা হতে পারে তাদের সৃজনশীল দলটির কোনো ভুল। কিন্তু ঘটনাটি যে কারণেই ঘটুক, প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবেই হোক, তাতে আমাদের পবিত্র নবীর নাম উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা কেবলই অসম্মান ও অপমান করা। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা এটা পরিবর্তন না করবে ও ক্ষমা না চাইবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনারা এটি ব্যবহার করবেন না।’ সূত্র : ডেইলি মেইল।



মন্তব্য