kalerkantho


ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের তথ্য

শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য নানা প্রশ্ন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য নানা প্রশ্ন

দুবাইয়ের হোটেলে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবীর—এ কথা প্রথমে বলা হয়েছিল পরিবারের পক্ষ থেকে। কিন্তু  ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের বরাত দিয়ে গলফ নিউজ ও খালিজ টাইমস বলছে, হার্ট অ্যাটাকে নয়, দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ারের বাথরুমে বাথটাবের পানিতে ডুবে দম আটকে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর! তাঁর রক্তের নমুনায় পাওয়া গেছে অ্যালকোহল!

এদিকে স্বজনরা বলছে, শ্রীদেবী মদ্যপান করতেন না; ঘরোয়া অনুষ্ঠানে মাঝেমধ্যে ওয়াইন খেতেন। এ ছাড়া তাঁর মৃত্যুর আগে-পরে স্বামী বনি কাপুরের অবস্থান ও কার্যক্রম ঘিরে নানা প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে।

শনিবার রাতে দুবাইয়ের ওই বিলাসবহুল হোটেলে হার্ট অ্যাটাকে ৫৪ বছর বয়সী শ্রীদেবীর মৃত্যু হয় বলে তাঁর স্বামী বনি কাপুর জানিয়েছিলেন। রবিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয় এই অভিনেত্রীর। গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও মরদেহ ফেরত না পাওয়ায় এই মৃত্যু ঘিরে নানা গুঞ্জন ডানা মেলে।

গতকাল দুপুরের পর পুলিশ ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট শ্রীদেবীর পরিবার ও দুবাইয়ে ভারতীয় কনস্যুলেটে পাঠায়। এরপর তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশাসন। প্রশাসনের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুর্ঘটনাবশত’ বাথটাবের পানিতে ডুবেই ভারতীয় নাগরিক ‘শ্রীদেবী বনি কাপুর আইয়াপ্পানে’র মৃত্যু হয়েছে। তবে এই অভিনেত্রীর মরদেহ কখন পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে তা এখনো পরিষ্কার হয়নি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুবাইয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্বামী বনি কাপুর ও ছোট মেয়ে খুশিকে নিয়ে দুবাই গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। সেখানে জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার হোটেলে ছিলেন তাঁরা। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে গত বুধবার মুম্বাই ফিরে আসেন শ্রীদেবীর স্বামী বনি ও মেয়ে খুশি। এরপর টানা দুই দিন হোটেলের ঘর থেকে বের হননি এই অভিনেত্রী। শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দিতে আবার দুবাই যান বনি। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হোটেলে পৌঁছে স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ১৫ মিনিটের মতো দুজনের মধ্যে কথা হয়। এরপর রাতের খাবার খাওয়ার জন্য বনি স্ত্রীকে অনুরোধ করলে ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাথরুমে ঢোকেন শ্রীদেবী। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বেরোচ্ছেন না দেখে বনি বারবার দরজা ধাক্কা দেন, সাড়া না পেয়ে বাথরুমের দরজা ভেঙে অজ্ঞান অবস্থায় স্ত্রীকে বাথটাব থেকে তুলে আনেন। এরপর বনি তাঁর এক বন্ধুকে ফোন করে ডাকেন। শ্রীদেবীকে নিয়ে যাওয়া হয় রশিদ হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। রাত ৯টা নাগাদ পুলিশ ডাকা হয়।

গতকাল দুপুরে দুবাইয়ের সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস জানায়, শ্রীদেবীর রক্তের নমুনায় অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। এর পর থেকেই এই মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরো জোরালো হতে থাকে। ভারতের সমাজবাদী পার্টির নেতা অমর সিং দাবি করেছেন, শ্রীদেবী মদ্যপান করতেন না। অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে ওয়াইন খেতেন। তাঁর এই দাবিতে রহস্য আরো বেড়েছে। তাহলে কি অভিনেত্রীকে কেউ জোর করে মদ্যপান করিয়েছিলেন?

প্রশ্ন উঠছে, স্বামী-মেয়ে ফিরে আসার পরও দুই দিন দুবাইয়ের হোটেলে কেন ছিলেন এই অভিনেত্রী? হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয় শ্রীদেবীর। কিন্তু পুলিশে খবর দেওয়া হয় রাত ৯টায়। এত পরে কেন মৃত্যুর খবর পুলিশকে জানানো হলো?

তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে দুবাই পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে স্বামী বনি কাপুরকে। ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সব কিছু খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হোটেলের ২২০১ নম্বর ঘর, যেখানে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়েছে, সেটির বাইরের সব সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে হোটেল কর্মচারীদেরও।

এরই মধ্যে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুবাইয়ের পাবলিক প্রসিকিউশনকে। শ্রীদেবীর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করেই মরদেহ তুলে দিতে চায় দুবাই প্রশাসন। এসব কারণেই সোমবার রাত পর্যন্ত  শ্রীদেবীর মরদেহ ভারতে ফেরেনি।

এদিকে গতকাল ভারতের মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রীদেবীর শেষকৃত্যের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালাতে তাঁর বাড়ির সামনে অগণিত ভক্ত-শুভানুধ্যায়ী শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছিল।



মন্তব্য