kalerkantho


‘মিয়ানমারে অনিরাপদ পরিবেশ এখন নেই’

শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের এক বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান জানান, মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল আশ্বস্ত করেছে, যেসব রোহিঙ্গা শূন্যরেখায় আশ্রয় নিয়েছে তাদের যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ বা মেরামত করতে যা যা দরকার তা মিয়ানমার সরকার করবে। 

বাংলাদেশের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে এমন কোনো পরিবেশ দেখা যায়নি, যাতে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফিরে গিয়ে অনিরাপদজনিত সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তিনি বলেন, উভয় দেশের প্রতিনিধিদল শূন্যরেখায় ঘুরে সেখানে আশ্রিত রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা বলেছেন, তাদের বসতভিটায় বসবাসের নিশ্চয়তা দিলে যেকোনো মুহূর্তে তারা মিয়ানমারে নিজ ভিটায় ফিরে যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার সীমান্তের মিয়ানমারের অংশে ঢেঁকিবনিয়ায় দেশটির সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপি (বর্ডার গার্ড পুলিশ) ক্যাম্পে এই বৈঠক হয়। এতে মিয়ানমারের ১১ সদস্যের দলের নেতৃত্ব দেন মংডু টাউনশিপের কমিশনার টং পে লেউই।

ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুনধুম ইউনিয়নের তুমবুরু কোনারপাড়া শূন্যরেখায় আশ্রিত প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গাদের ফিরে নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রস্তাব রাখে। এতে সায় দেয় মিয়ানমার। তবে শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক তালিকা চেয়েছে মিয়ানমার। বাংলাদেশ পক্ষ বলেছে, যেহেতু এসব রোহিঙ্গা শূন্যরেখা থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেনি সেহেতু বাংলাদেশ তাদের তালিকা দিতে অপারগ। তখন সিদ্ধান্ত হয় এ রকম তালিকাটি করবেন শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গা নেতারা।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বর্ষার আগেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার তাগিদ দিয়ে বলেছে, বর্তমানে পাহাড়ে রোহিঙ্গারা অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষায় যেকোনো সময় পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের আরো জানান, প্রত্যাবাসনের আওতাধীন রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে গিয়ে কোথায় থাকবে এবং তাদের কী অবস্থায় রাখা হবে—ওই সব পয়েন্টগুলো তারা ঘুরে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের আপাতত থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা মিয়ানমার যা করেছে তা মোটামুটি সন্তোষজনক মনে হয়েছে।’

গতকাল সকাল সোয়া ১১টার দিকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সীমান্তের জিরো পয়েন্ট ঘুনধুম লাল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল তাদের ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন, বান্দরবান পুলিশ সুপার সনজিৎ কুমার প্রমুখ।

 


মন্তব্য