kalerkantho


বিএনপির বিক্ষোভে পুলিশের বাধা, লাঠিপেটা গুলি

হবিগঞ্জ, ফরিদপুরসহ কয়েকটি স্থানে শতাধিক নেতাকর্মী আহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপির বিক্ষোভে পুলিশের বাধা, লাঠিপেটা গুলি

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল মুন্সীগঞ্জ শহরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীরা গতকাল মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। কয়েকটি স্থানে পুলিশ বাধা দেওয়ার পাশাপাশি বেধড়ক লাঠিপেটা করেছে। গ্রেপ্তার করেছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা নেতাকর্মীদের। হবিগঞ্জে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে। সেখানে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। ফরিদপুরসহ আরো কয়েকটি স্থানে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করায় আহত হয়েছেন সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক। দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের এ কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের পৌর মেয়র জি কে গউছের নেতৃত্বে গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় ডিবির ওসি শাহ আলমের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। মেয়র গউছের সঙ্গে পুলিশের বাগিবতণ্ডা হয়। পুলিশ মেয়রকে আটক করে রাখলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. ইলিয়াছ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এমদাদুল হক ইমরানসহ অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুন্নবী। তিনি মেয়রকে মুক্ত করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সদর থানার ওসি ইয়াছিনুল হক বলেন,  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল হবিগঞ্জ শহরে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় মেয়র জি কে গউছকে পুলিশ আটক করতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ওদিকে ফরিদপুরে বিএনপির মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি গুলি ছুড়েছে। এতে দুজন সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। জেলা বিএনপি আয়োজিত একটি মিছিলকে শহরের সুপারমার্কেটের সামনে সকাল সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ ব্যানার কেড়ে নিয়ে নেতাকর্মীদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে। তখন বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের লাঠিচার্জে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে পুলিশের সদস্যরা সুপারমার্কেটসহ চৌরঙ্গী মোড় ঘিরে ফেলে। পুলিশ মোদাররেছ আলী ইছা, জুলফিকার হোসেন জুয়েলসহ ২০ নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সময় আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক নির্মলেন্দু চক্রবর্তী শঙ্করসহ সংবাদকর্মীরা আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. নাজিমউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশের কাজে বাধাদান ও হামলার অভিযোগে বিএনপির ২০ নেতাকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি সামলাতে শটগানের ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

চাঁদপুরে পুলিশ বিশেষ অভিযানে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফ মো. ইউনুসকে গ্রেপ্তার করেছে।

পটুয়াখালীতে পুলিশের বাধায় অনুষ্ঠিত হয়নি বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল। সকালে শহরের শেরেবাংলা সড়কের সুরাইয়া ভবন থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে কর্মীরা মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একইভাবে পুলিশ রাজবাড়ী জেলা বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা বের হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন সেখানেই পথসভা হয়। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বাধায় বিক্ষোভ মিছিল করতে না পেরে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। তবে নারায়ণগঞ্জে জেলা ও মহানগর বিএনপি যৌথভাবে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শহরের বালুরমাঠ এলাকায় এ কর্মসূচিতে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও জয়নুল আবেদীন ফারুক।

এ ছাড়া পুলিশের বাধা সত্ত্বেও মৌলভীবাজার, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, নরসিংদী ও চুয়াডাঙ্গায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(রিপোটর্টি তৈরিতে তথ্য সহায়তা করেছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিরা)



মন্তব্য