kalerkantho


এ যে বাংলা ভাষার অপার জাগরণ

সুপর্ণা লাহিড়ী বড়ুয়া

তৌফিক মারুফ   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এ যে বাংলা ভাষার অপার জাগরণ

বাংলা ভাষার বই বা লেখালেখির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার দেশের প্রকাশকরা যেভাবে হা-হুতাশ করেন, এখানে এসে আমার তো মনে হচ্ছে তা একেবারেই অমূলক। এ তো দেখছি বাংলা ভাষার অপার জাগরণ। বরং বাংলা ভাষার সব ধরনের গর্বিত রূপই এখানে জেগে আছে। ওপার বাংলার লেখক সুপর্ণা লাহিড়ী বড়ুয়া গতকাল সোমবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে কালের কণ্ঠকে কথাগুলো বলেন। এর আগে দুপুরে ভারত থেকে বিমানে উড়ে ঢাকায় নেমেই তিনি ছুটে আসেন মেলা প্রাঙ্গণে।

কলকাতা ও ঢাকার বইমেলার তুলনা করতে গিয়ে ভারতীয় ওই লেখক বলেন, ‘আমি নির্দ্বিধায় বলতে চাই যে এই একুশে বইমেলা অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী।’ তিনি বলেন, ‘কলকাতার প্রকাশকদের কাছে শুনি, বাংলা বইয়ের চাহিদা কমে যাচ্ছে। আর এখানে দেখছি তার উল্টো চিত্র। অন্য ভাষা সাহিত্যের যত আগ্রাসী অগ্রযাত্রাই হোক না কেন, বাংলা সাহিত্য যে ভিন্ন মাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তার বড় প্রমাণ বাংলাদেশের এই বইমেলা। সব শ্রেণির মানুষের যে উচ্ছ্বসিত মিছিল বইয়ের জন্য, এটা আমার কাছে অভাবনীয়; অভিভূত ও শিহরিত হওয়ার মতো ব্যাপার।’

সুপর্ণা লাহিড়ী বলেন, এখানে সব ধরনের বই-ই আছে। এটা খুব আশাপ্রদ ব্যাপার। তবে মৌলিক লেখালেখির মাত্রা কতটা আছে, সেটা নিয়ে আমার মধ্যে এক ধরনের কৌতূহল জেগেছে। অন্যান্য ধারার লেখা যতই বাড়ুক না কেন, একজন পাঠক হিসেবে আমি বলব যে মৌলিক ধারা রাখতেই হবে। আগে যেমন একেকজন লেখকের লেখায় বিবরণগুলো পাঠকের মনের গহিনে সহজেই গেঁথে যেত, এখন তেমনটা একটু কমই দেখা যায়। এই প্রবণতা অনেকটা হতাশার। তিনি বলেন, নতুন পাঠকরা নতুন কিছু খুঁজলেও সেই নতুনত্বের মধ্যে মৌলিকতা থাকতে হবে। এখানে নতুন প্রজন্ম মৌলিক মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরে বাঁচতে পারবে। বিপথগামী হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।



মন্তব্য