kalerkantho


রাজনীতিতে সততার বিরল দৃষ্টান্ত

ছোট ভাইয়ের চায়ের দোকানের আয়ে চলতেন

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ছোট ভাইয়ের চায়ের দোকানের আয়ে চলতেন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া কলেজের পাশে দুই তলাবিশিষ্ট একটি বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকেন সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা মো. ইউসুফের ছোট ভাই মোহাম্মদ সেকান্দর। তিন কক্ষের ওই ছোট বাসায় সেকান্দরের পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন চিরকুমার ইউসুফ। সেকান্দরের চায়ের দোকানের সামান্য আয়ে তাঁর পরিবারের পাশাপাশি বড় ভাই ইউসুফও চলতেন। তাঁকে দেখাশোনাও করত ছোট ভাইয়ের পরিবার।

অতিসাধারণ জীবনযাপন ও সৎ থেকে বর্তমান রাজনৈতিক ও সমাজব্যবস্থায় বিরল দৃষ্টান্ত তৈরি করা মহান রাজনীতিক রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউসুফ গতকাল মারা গেছেন। তাঁর অনুকরণীয় সততা, নীতি-আদর্শের কথা এখন সবার মুখে মুখে ফিরছে। তাঁর প্রয়াণে শোকে স্তব্ধ রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এককালের তুখোড় বামপন্থী নেতা মো. ইউসুফ ১৯৯১ সালে নৌকা প্রতীকে এমপি হলেও ওই সময় এমপিদের শুল্কমুক্ত কোটায় গাড়ি, গুলশান-বনানীতে প্লট, সরকারি সুযোগ-সুবিধা কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের কোনো ধরনের তদবির করা কিংবা কমিশন নেওয়ার দিকে ফিরে তাকাননি। কোনো জায়গা-জমি নেই। অর্থবিত্তও ছিল না। মানুষ ও দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজের সংসারজীবন নিয়ে ভাবারও সময় পাননি। এ কারণেই সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার মানুষ, গণমানুষের প্রিয় নেতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম বলেন, ‘মো. ইউসুফ সৎ ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমাদের দলের পাশাপাশি দেশ একজন বড় মাপের ব্যক্তিত্বকে হারাল। তাঁর সততা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইউসুফ ভাই সৎ-স্বচ্ছ-পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক ছিলেন। ভোগ-বিলাসের ঊর্ধ্বে উঠে আমৃত্যু জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন। সাধারণ ঘরে জন্ম নিয়েও তৃণমূল থেকে উঠে এসে এই নেতা এমপি হয়েছেন। ক্ষমতায় থাকার পরও তিনি কোনো অর্থ-বিত্তের পেছনে ছোটেনি। তিনি কি এমপি, না কর্মী, না নেতা কাউকে কিছু বুঝতে দেননি। খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। দলের দুঃসময়েও তিনি নেত্রীর প্রতি আস্থাশীল ছিলেন।’ 

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, ‘তিনি গণমানুষের নেতা ছিলেন। ইউসুফ ভাইয়ের মতো নেতা বর্তমান সময়ে শুধু অভাব নয়, বিরল। রাজনীতিতে লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে যে জনগণের জন্য কাজ করা যায় তা ইউসুফ ভাই দেখিয়ে গেছেন।’

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘রাজনীতিতে মো. ইউসুফের মতো বড় মাপের ত্যাগী নিবেদিত নেতা কম পাওয়া যাবে। তিনি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও সততার সঙ্গে আজীবন গণমানুষের জন্য রাজনীতি করে গেছেন। চিকিৎসা যে করাবেন সে টাকাও ছিল না উনার। কিন্তু অর্থবিত্তের জন্য কোনো দিন তিনি ছোটেননি। মানুষের পাশে থাকা ও মানুষের ভালোবাসাই ছিল ইউসুফ ভাইয়ের অবলম্বন।’

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের জন্য কাজ করলে জনমানুষের নেতা হওয়া যায় তা সবাইকে চোখ দিয়ে দেখিয়েছেন মো. ইউসুফ। তিনি ক্ষমতায় থাকার পরও নিজ পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের জন্য কিছু করেননি। সততার সঙ্গে জীবনযাপন করেছেন। অর্থের অভাবে কষ্ট পেলেও কখনো কাউকে বলেননি।’

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার বলেন, ‘ইউসুফ ভাই রাজনীতিকে মানবসেবা হিসেবে দেখেছেন। লোভ-লালসা না থাকা এ রকম নির্লোভ ত্যাগী মহান নেতা বর্তমানে বিরল।’



মন্তব্য