kalerkantho


আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জ্ঞানের চাবিকাঠিও বই

আতিকুল ইসলাম

তৌফিক মারুফ   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জ্ঞানের চাবিকাঠিও বই

‘বইয়ের বাইরে কিছুই নেই। যে যে ক্ষেত্রেই কাজ করুক না করুক, বইয়ের মতো ভালো বন্ধু কেউ হতে পারে না। কেবল শিল্প-সাহিত্য নয়, আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক জ্ঞানের চাবিকাঠিও হচ্ছে বই। উন্নতি-অগ্রগতির মূলেও সেই বই। এককথায় বই হচ্ছে সব মানুষের প্রকৃত জ্ঞানের আলো আর বইমেলা মানুষের জ্ঞানের মেলা। তাইতো একজন পাঠক হিসেবে আমাকেও এখানে বারবার টেনে আনে অমর একুশে গ্রন্থমেলা।’

দেশের ব্যবসা খাতের অন্যতম শীর্ষ নেতা, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম গতকাল রবিবার একুশে গ্রন্থমেলা ঘুরে দেখার সময় কালের কণ্ঠ’র কাছে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

মেলার পরিবেশ ও মানুষের ভিড়ের দিকে তাকিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই মেলা মানুষকে এক ধরনের শৃঙ্খলাবোধও তৈরি করে দিচ্ছে। মনের নানামুখী বিকাশ ঘটাচ্ছে। এই যে এত মানুষের ঢল, কিন্তু সবাই নিয়ম মেনে মেলায় আসছে-যাচ্ছে, ঘুরছে, বই দেখছে। আর এতো বড় আয়োজনটিও কতো সুন্দরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এখান থেকে ঢাকা নগরবাসীর যানজট নিরসনের একটা শিক্ষা নেওয়ার ব্যাপার আছে। যারা আমরা সড়কে গাড়ি নিয়ে বের হই, তারা যদি সবাই ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করতে পারি তবে এই ঢাকায় এমন অসহনীয় যানজট থাকতে পারে না।’

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘বই পড়ে আমরা নিজের জীবনকে গড়ে তোলার প্রেরণা পাই, নতুন নতুন দিগন্ত খুঁজে পাই। এই অর্জনকে যদি ব্যক্তি ও সমষ্টির জীবনে ইতিবাচকভাবে প্রয়োগ করতে পারি তবেই বই আর মেলার সার্থকতা পাওয়া যাবে।’

আতিকুল ইসলাম নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ‘সফল মানুষ হতে হলে ভালো ভালো বই পড়তে হবে। বইয়ের মধ্যে নতুন জীবন গড়ার অনেক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ে সফল ব্যবসায়ী হতে হলেও বইমনস্ক হওয়া জরুরি। শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে হয়। ভালো মননশীল মানুষ হিসেবে পরিচিতির দরকার হয়। সমাজসেবা করতে হলেও বইয়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অনেক ইতিবাচক প্রভাব আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি মানুষ যেভাবে বইকে ভালোবেসে একুশের গ্রন্থমেলায় ছুটে আসছে, তেমনিভাবে এই ঢাকাকেও ভালোবাসবে। তবেই ঢাকা সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপ নিতে পারবে।’

বিজিএমইএর এই সাবেক সভাপতি বলেন, দূরত্ব আর যানজটের কারণে ঢাকার অনেক এলাকার মানুষের আগ্রহ থাকলেও এই মেলায় আসতে পারে না। তাই এই মেলা যদি কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া যায় সেটা খুবই ভালো হবে।



মন্তব্য